নির্বাচন পরিচালনায় প্রশ্ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি ও দুই এডিসি আলোচনায়
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৫৭৯ বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদসহ তিন কর্মকর্তাকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিসি ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্ব করেছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একই জেলায় বারবার পদায়ন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এডিসি নাকিব হাসান তরফদারের অতীত আ.লীগ শাসন আমলে বিতর্ক যোগ হয়ে তিন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততায় আসন্ন ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই শাহাদাত হোসেন মাসুদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পান। কিন্তু নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হতেই তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিতে তিনি প্রার্থিতা যাচাইয়ে দ্বৈত মানদণ্ড প্রয়োগ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সাধারণ জনগণকে হয়রানি করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৫ ও ৬ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও শাহাদাত হোসেন মাসুদের জেলা প্রশাসক পদে যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ, ২৮তম বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারের এই কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় দুই বছরের মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতাও পূরণ করেননি, ইউএনও ও এডিসি হিসেবে তার অভিজ্ঞতা মাত্র এক বছরের কিছু বেশি।
অপরদিকে এডিসি আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে একই জেলায় একাধিকবার পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। তিনি আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে একই জেলায় কাজ করেছেন, যা বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নীতির পরিপন্থী। অভিযোগ রয়েছে, প্রমোশন ও পুনঃযোগদানের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া ভূমি সহকারী কমিশনার হিসেবে থাকাকালীন নামজারি, মিস কেস ও আর্থিক অনিয়মের কথাও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এরপর এডিসি নাকিব হাসান তরফদারের কর্মকাণ্ডও প্রশাসনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর ক্যারিয়ার অগ্রগতি প্রশাসনিক যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। শেখ হাসিনার নিজ জেলা টুঙ্গিপাড়ায় দীর্ঘ ৩ বছর ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বঙ্গভবন এবং অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিসরে কাজ করা এবং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন প্রশাসনের নিরপেক্ষ চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নাকিব হাসান তরফদার নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একান্ত সচিব আশ্রাফুল আলম জানান, অভিযোগ ও সংবাদপত্রের খবর দেখেছেন। বিষয়টি সচিব স্যারের কাছে রয়েছে এবং তাঁরা দেখবেন।



















