নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: প্রধান আসামি শাহরিয়ারের জামিন
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ জামিন পেয়েছেন। বয়স্ক ও অসুস্থ বিবেচনায় করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে তাঁর জামিনের আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার ও রিমান্ড শেষে জামিন
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহরিয়ার মাহমুদের জামিন আবেদনে তাঁর বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ১ অক্টোবর আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ৭ অক্টোবর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। এবার আদালতের আদেশে তিনি জামিন পেলেন।
প্রকল্পে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের ক্রয় করা জমিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা ওই সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা এবং সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে প্রকল্পে প্রবেশ করেন। তাঁদের হাতে শাবল, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছুরি, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁরা প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এতে প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। প্রাণভয়ে বাদী নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল কাসেম রিভলবারের মাথা দিয়ে পারভেজের মাথায় আঘাত করেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বাবুল নামের আরেক আসামি ছুরি দিয়ে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচে, বাম হাত ও পিঠে আঘাত করেন।
পারভেজকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামও হামলার শিকার হন। তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গোলাম মহিউদ্দিন পারভেজের পকেট থেকে সাত হাজার টাকা নিয়ে যান। শাহিনুজ্জামান নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যবহৃত একটি ওয়্যারলেস সেট নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া মতিউর ও মজিবুর সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই হাজার টাকা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
গেট ও অফিস ভাঙচুর, ২৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ
এজাহার অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে নুরুল ও মিজানুর প্রকল্পের প্রধান ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি করেন। এরপর লোহার গেট, থাইগ্লাস ও কাঁচি গেট ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এ ছাড়া প্রকল্পের অফিসকক্ষে ঢুকে চারটি কম্পিউটার মনিটর, চারটি ডিভিডি বক্স, একটি এলইডি টেলিভিশন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার ও একটি কাঠের আলমারি ভাঙচুর করা হয় বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে। এসব ঘটনায় আরও প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যান হামলাকারীরা। সব মিলিয়ে শুধু গেট ও অফিসের সরঞ্জাম ভাঙচুরেই প্রায় ২৭ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রী চুরির অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া
নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শাহরিয়ার মাহমুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় অস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ, মারধর, সম্পদ নষ্ট এবং নগদ অর্থ ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।
তবে এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণের বিষয়। আদালত বয়স্ক ও অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় শাহরিয়ার মাহমুদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী চলবে। জামিন পাওয়া মানেই মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়।























