দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে মুখ্য: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০১:০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী ও গুলশান-বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশ গড়তে নাগরিক পরিচয়ই প্রধান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ কে কোন ধর্মের অনুসারী, তা বিবেচনা করেনি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। তখন জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। এসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ঐক্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিনও দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এ দেশের নাগরিক।’
সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—এ দেশের মানুষ সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের দৃষ্টান্ত রয়েছে। আগামী হাজার বছরও যেন সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই প্রত্যাশা সবার থাকা উচিত।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনও উপস্থিত ছিলেন।
রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালীর রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান।
পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দেশকে এগিয়ে নিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।




















