দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকবচ? এসিল্যান্ড শাহাদাতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক!
- আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮২৪ বার পড়া হয়েছে
সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিস এখন সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। উত্তর কাউন্দিয়া মৌজায় আর.এস ৯৮৮ নং খতিয়ানের ৬২৭৪/৬৩২৫ দাগের বাংলাদেশ সরকারের ১ একর (১০০ শতাংশ) মূল্যবান জমি ব্যক্তিমালিকানায় তুলে দেওয়ার নেপথ্যে কাজ করছে আমিন বাজার ভূমি অফিসের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
আর এই সিন্ডিকেটকে সুরক্ষা দিতে খোদ বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কালে প্রতিবেদকের সাথে অপেশাদার ও উদ্ধত আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আমিন বাজারের ভূমি অফিসের উত্তর কাউন্দিয়া মৌজার আর.এস ৯৮৮ খতিয়ানের সরকারি জমিটি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যক্তির নামে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জড়িত খোদ আমিন বাজার রাজস্ব সার্কেলের সাবেক এসিল্যান্ড বাসিত সাত্তার যিনি ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে সরকারি জমি ব্যক্তির নামে দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। ভূমি অফিসের সাবেক এসিল্যান্ডসহ এই চক্রটির সহযোগি হিসেবে কাজ করেন, সাবেক মিসকেস শাখা কর্মকর্তা জায়েদ আল রাব্বি তিনি জালিয়াত চক্রের অন্যতম কারিগর হিসেবে সমস্ত নথিপত্র সাজাতে সহায়তা করেছেন। আর একজন অন্যতম সদস্য সাবেক সার্ভেয়ার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কানুনগো হান্নান মিয়া। যিনি তুরাগ নদীর অংশকে বানোয়াট তদন্তের মাধ্যমে দখলদারদের ‘ভোগদখলীয় জমি’ হিসেবে প্রতিবেদন দিয়েছেন।
অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, আমিনবাজার ভূমি অফিস ও রাজস্ব সার্কেল অফিসের সংরক্ষিত আর.এস ৯৮৮ নং খতিয়ানের ৬২৭৪/৬৩২৫ দাগের পাতাগুলো মূল ভলিউম থেকে ছিঁড়ে গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সরকারি রেকর্ড রুমের এই ভয়াবহ জালিয়াতি নিয়ে বর্তমান এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খান-এর কাছে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
অনুসন্ধানকালে অভিযুক্ত জাহিদ আল রাব্বি এবং ভারপ্রাপ্ত কানুনগো হান্নান মিয়া সাংবাদিকের সাথে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে বলেন, উপরমহলের অনুমতি ছাড়া কথা বলা যাবে না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করেন বর্তমান এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খান। তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের ঢাল হয়ে দাঁড়ান।
সাংবাদিককে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমার কর্মকর্তাদের ডিস্টার্ব করবেন না, আপনার জন্য তারা কাজ করতে পারছে না। আপনি এই কাজ নিয়ে আমার অফিসে আর আসবেন বলে প্রতিবেদক বলেন। দ্বিতীয় বার আসলে আপনার অফিসের পারমিশন নিয়ে আমার কাছে আসবেন।
এমনকি কর্মকর্তাদের বাঁচাতে তিনি তড়িঘড়ি করে মিসকেসটি পুনরায় সচল করে আগের আদেশ বাতিল করার নাটক সাজান, যাতে করে তার অপরাধী সহকর্মীরা পার পেয়ে যান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যে জমিটিকে কানুনগো হান্নান মিয়া ‘ভোগদখলীয়’ দাবি করেছেন, সেটি মূলত তুরাগ নদীর অংশ। বর্তমানে সেখানে বালু ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, মাত্র দুই বছর আগেও এখানে বর্ষাকালে জেলেরা মাছ ধরতেন। অথচ ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের চোখে এটি এখন ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি!
এলাকাবাসীরা আক্ষেপ করে বলেন, একজন বিসিএস ক্যাডার হয়েও বর্তমান এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খান কেন রেকর্ড রুমের পাতা ছেঁড়া ও জমি আত্মসাতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাঁচাতে সাংবাদিককে হেনস্তা করছেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ভূমিখেকো এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। এদের বিরুদ্ধে এখনই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু না হলে সাভারের আরও অনেক সরকারি সম্পত্তি এই সিন্ডিকেটের পেটে চলে যাবে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসি) রেজাউল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
























