ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৮ বার পড়া হয়েছে
দেশে ডিমের উৎপাদন বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, উন্নত মানের ডিম উৎপাদন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং পোলট্রি খাতের টেকসই উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের তুলা ভবন মিলনায়তনে বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি দেশের পোলট্রি খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করা গেলে ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ডিম রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি, নতুন সম্ভাবনা
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে। ডিম উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের পুষ্টিচাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক বাজারে প্রবেশের সুযোগও বাড়বে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পোলট্রি খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে উৎপাদন খরচের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে পোলট্রি ফিডের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
একই সঙ্গে পোলট্রি ফিডে কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখার আহ্বান
ডিমের পুষ্টিগুণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক কম খরচে ডিম থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়। এটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি করে ডিম রাখা যেতে পারে।
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজধানীতে র্যালি বের করা হয় এবং বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হয়।
এবার বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’।
পোলট্রি খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব
পোলট্রি শিল্পের বিকাশে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর মতে, বাড়ির আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালনের সুযোগ তৈরি করা গেলে নারীরা পরিবারের পুষ্টিচাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এ শিল্পকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় হাঁস-মুরগি বিতরণ করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০১ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহিত করা গেলে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়বে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে নারীদের অর্থনৈতিক ভিত্তিও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
আগামী দিনে প্রান্তিক পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
পোলট্রি খামারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সহযোগিতা
পোলট্রি খামারের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিদ্যুতের খরচ কমানোর বিষয়েও সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পোলট্রি খামারগুলোকে কীভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে সরকার সহযোগিতা করবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে খামার পরিচালনার ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পোলট্রি খাতের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত ডিম উৎপাদন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বিশ্ব ডিম দিবসের আলোচনা সভায় যারা ছিলেন
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের আহ্বায়ক মসিউর রহমান এবং ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কৃষিবিদ মোহাঃ রেজাউল আমিন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমানসহ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. বাপন দে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে বিশ্ব ডিম দিবসের এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।























