ডিজেল বিক্রিতে এখনও ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে: রিজভী
- আপডেট সময় : ০১:৪২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডিজেলে ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল
রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা হলেও সরকারের লোকসান পুরোপুরি কাটেনি। এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দামের তুলনা
আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরেন রিজভী। তিনি জানান, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা। মিয়ানমারে তা প্রায় ১৬৪ টাকা। শ্রীলঙ্কায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা।
এ ছাড়া ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম কম রাখা হয়েছিল।
রিজভী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সময়ও বাংলাদেশে ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। পরে ২০ টাকা দাম সমন্বয় করা হলেও এখনো লোকসান রয়েছে।
দাম ওঠানামাকে অর্থনৈতিক প্রবাহ বললেন রিজভী
জ্বালানি তেলের দাম বাড়া-কমার প্রভাব ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, একদিকে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে এবং অন্যদিকে কোনো পণ্যের দাম কমবে—এটি অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ। কোনো দেশে কোনো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হলে তার প্রভাব অর্থনীতির অন্য ক্ষেত্রেও পড়ে।
নাশকতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির আহ্বান
আলোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে তারা কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।


























