০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের আস্থা পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের আহ্বান খলিলুর রহমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।

নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি

ড. খলিলুর রহমান নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন নেই।

তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে আফ্রিকার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বশীল করার পাশাপাশি বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনে তিন কৌশল

জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে তিনটি কৌশলের ওপর জোর দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এগুলো হলো—জাতিসংঘের নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বৈষম্য এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি থমকে থাকার মধ্যে ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সংঘাতে আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কোনোভাবেই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

এ সময় বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক নীতিমালার তাগিদ

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জাতিসংঘের আস্থা পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের আহ্বান খলিলুর রহমানের

আপডেট সময় : ১২:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।

নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি

ড. খলিলুর রহমান নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন নেই।

তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে আফ্রিকার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বশীল করার পাশাপাশি বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনে তিন কৌশল

জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে তিনটি কৌশলের ওপর জোর দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এগুলো হলো—জাতিসংঘের নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বৈষম্য এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি থমকে থাকার মধ্যে ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সংঘাতে আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কোনোভাবেই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

এ সময় বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক নীতিমালার তাগিদ

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।