ইসরায়েলগামী বিমানে দুই পাইলটের মারামারি, সৌদিতে জরুরি অবতরণ
- আপডেট সময় : ০৪:২০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে একজন অন্যজনকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করান।
দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি আকাশে থাকা অবস্থায় দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন পাইলট অপরজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এতে আহত পাইলটের শার্ট রক্তে ভিজে যায়।
ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র দুই মিনিটে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অনেকে ধারণা করেছিলেন, হয়তো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়েছে।
যাত্রীদের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ নেন দুই পাইলট
বিমানে থাকা এক যাত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় দুই পাইলটের আসনে যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুজন পাইলট বসেছিলেন। তিনি তাদের দ্রুত ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
এদিকে হামলাকারী পাইলটকে সামনের দিকের কয়েকজন যাত্রী নিবৃত করে ককপিট থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে অন্য দুই পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যান।
আহত পাইলটকে বিমানে থাকা একজন ডেন্টিস্ট প্রাথমিকভাবে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেন বলেও ওই যাত্রী জানিয়েছেন।
পাঠানো হয় জরুরি সংকেত ৭৭০০
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বিমানটি থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ পাঠানো হয়। উড়োজাহাজে গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে এই সংকেত ব্যবহার করা হয়।
সংকেত পাওয়ার পর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে পরে জানা যায়, বিমানটি ছিনতাই হয়নি।
তাবুকে নিরাপদে অবতরণ
জরুরি সংকেত পাঠানোর পর বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। পরে এটি সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, অবতরণের পর বিমানে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। যাত্রীরাও নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিমানে দুই পাইলটের মধ্যে কী কারণে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

























