০২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে স্পেন, পেছনে জার্মানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জার্মানিকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে স্পেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পেনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়ে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে, একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির চিত্রে এই পরিবর্তন এসেছে। স্পেনের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির বিপরীতে জার্মানিতে রপ্তানি প্রায় স্থবির থাকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে স্পেন।

স্পেনের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৭৩ শতাংশ

গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ছিল জার্মানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক। অন্যদিকে, ওই সময়ে স্পেনে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেনের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময়ে দেশটিতে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর ফলে স্পেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে। দুই দেশের বাজারে রপ্তানির এই ভিন্ন চিত্রই শীর্ষ অবস্থানের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইইউর বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩.৩৩ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধিতে স্পেনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, স্পেনে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ ইইউর বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশ। ফলে ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে স্পেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

স্পেনের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। পোল্যান্ডের বাজারে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য পাঁচটি প্রধান বাজারের মধ্যে মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হিসাবে এটি ছিল সর্বোচ্চ।

এতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে কয়েক মাসের তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি কমেছে

ইউরোপের সব বড় বাজারে অবশ্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়েনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ। ফ্রান্সের বাজারে কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশ মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধি সব দেশে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি।

এ পরিস্থিতিতে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের মতো বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা ধরে রাখার পাশাপাশি জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে ৫.৫৩ শতাংশ

প্রথম প্রান্তিকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। ওই মাসে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ডলারে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরের এই প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কার্যক্রমে গতি রয়েছে। তবে কোন কোন দেশে এই প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী মাসগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতির ওপর।

বাংলাদেশের পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা

স্পেনের শীর্ষস্থানে উঠে আসা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। এবার স্পেনের বাজারে দ্রুত রপ্তানি বৃদ্ধি ইউরোপে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরেছে।

তবে একটি প্রান্তিকের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বাজার পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। স্পেনে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি পুনরুদ্ধার করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও বাজারভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্ট। তাই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়াতে বিদ্যমান বড় বাজারগুলোতে অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেসব দেশে চাহিদা বাড়ছে, সেসব বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের দিকে নজর দিতে হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে স্পেন, পেছনে জার্মানি

আপডেট সময় : ০১:১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জার্মানিকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে স্পেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পেনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়ে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে, একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির চিত্রে এই পরিবর্তন এসেছে। স্পেনের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির বিপরীতে জার্মানিতে রপ্তানি প্রায় স্থবির থাকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে স্পেন।

স্পেনের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৭৩ শতাংশ

গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ছিল জার্মানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক। অন্যদিকে, ওই সময়ে স্পেনে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেনের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময়ে দেশটিতে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর ফলে স্পেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে। দুই দেশের বাজারে রপ্তানির এই ভিন্ন চিত্রই শীর্ষ অবস্থানের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইইউর বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩.৩৩ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধিতে স্পেনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, স্পেনে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ ইইউর বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশ। ফলে ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে স্পেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

স্পেনের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। পোল্যান্ডের বাজারে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য পাঁচটি প্রধান বাজারের মধ্যে মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হিসাবে এটি ছিল সর্বোচ্চ।

এতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে কয়েক মাসের তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি কমেছে

ইউরোপের সব বড় বাজারে অবশ্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়েনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ। ফ্রান্সের বাজারে কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশ মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধি সব দেশে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি।

এ পরিস্থিতিতে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের মতো বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা ধরে রাখার পাশাপাশি জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে ৫.৫৩ শতাংশ

প্রথম প্রান্তিকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। ওই মাসে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ডলারে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরের এই প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কার্যক্রমে গতি রয়েছে। তবে কোন কোন দেশে এই প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী মাসগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতির ওপর।

বাংলাদেশের পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা

স্পেনের শীর্ষস্থানে উঠে আসা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। এবার স্পেনের বাজারে দ্রুত রপ্তানি বৃদ্ধি ইউরোপে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরেছে।

তবে একটি প্রান্তিকের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বাজার পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। স্পেনে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি পুনরুদ্ধার করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও বাজারভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্ট। তাই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়াতে বিদ্যমান বড় বাজারগুলোতে অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেসব দেশে চাহিদা বাড়ছে, সেসব বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের দিকে নজর দিতে হবে।