আবুধাবি টেস্টে লিটনের বিশ্বরেকর্ড, ভাঙতে পারেন আরও বড় কীর্তি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। দুই ইনিংসে ফিফটি ও সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসাল করে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। এবার এক টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও নিজের করে নেওয়ার হাতছানি লিটনের সামনে।
টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করার পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসালের অনন্য কীর্তি গড়েছেন লিটন। তাঁর এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক মাইলফলক হয়ে থাকল।
ব্যাট হাতে ফিফটি, সেঞ্চুরিতে উজ্জ্বল লিটন
আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৫৩ রান করেন লিটন দাস। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুর্দান্ত ব্যাটিং করে তুলে নেন ১০২ রানের চমৎকার সেঞ্চুরি। দুই ইনিংসেই তাঁর ব্যাটিং ছিল ধারাবাহিক ও আত্মবিশ্বাসী।
তবে শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, উইকেটের পেছনেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই উইকেটকিপার। পুরো ম্যাচে আটটি ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি স্টাম্পিং করেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ।
ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই এমন পারফরম্যান্সের সুবাদে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন বাংলাদেশের এই তারকা।
ডেনিস লিন্ডসেকে ছাড়িয়ে গেলেন লিটন
এর আগে একই টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটকিপার হিসেবে আটটি ডিসমিসালের কীর্তি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসের দখলে।
১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮২ রান করেছিলেন লিন্ডসে। উইকেটের পেছনে তিনি নিয়েছিলেন আটটি ডিসমিসাল। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ছয়টি ক্যাচ ধরার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুটি ক্যাচ নেন তিনি।
এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন লিটন। দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫৩ ও ১০২ রান করার পাশাপাশি আটটি ক্যাচ এবং একটি স্টাম্পিং করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডের হাতছানি
লিটনের সামনে এখন আরও বড় একটি রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড রয়েছে যৌথভাবে তিনজনের দখলে।
তাঁরা হলেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ভারতের রিশাভ পন্ত। তিনজনই একটি টেস্টে ১১টি করে ডিসমিসাল করেছেন।
এই রেকর্ডে ভাগ বসাতে লিটনকে আরও দুটি ডিসমিসাল করতে হবে। আর তিনটি ডিসমিসাল করতে পারলে এককভাবে রেকর্ডটির মালিক হবেন তিনি। ফলে আবুধাবি টেস্টের বাকি সময়ে লিটনের উইকেটকিপিং পারফরম্যান্সের দিকে বাড়তি নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
যেভাবে ১১ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছিলেন তিন উইকেটকিপার
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে ১১টি ডিসমিসাল করে রেকর্ড গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার জ্যাক রাসেল।
এর ১৮ বছর পর একই ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স। এরপর ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে ১১টি ডিসমিসাল করে এই তালিকায় নাম লেখান ভারতের রিশাভ পন্ত।
টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে উইকেটকিপারদের ৯টি ডিসমিসালের ঘটনা লিটনের কীর্তিসহ ৩১ বার ঘটেছে। ১০টি ডিসমিসালের ঘটনা রয়েছে পাঁচটি। আর সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড রয়েছে তিন উইকেটকিপারের দখলে।
বাংলাদেশের উইকেটকিপিংয়েও নতুন রেকর্ড
লিটনের এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে এক টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সাতটি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল খালেদ মাসুদের।
২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে সাতটি ডিসমিসাল করেছিলেন তিনি। এবার আটটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে সেই রেকর্ড অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছেন লিটন।
ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল—সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টে লিটন দাসের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, ম্যাচের বাকি সময়ে আরও ডিসমিসাল করে তিনি টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১১ ডিসমিসালের রেকর্ড ভাঙতে পারেন কি না।























