আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন ভবনে অফিস
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরিত হচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয়। এ লক্ষ্যে ৩১ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন কমপ্লেক্সে ২০২৯ সালের মধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হলেও এখনো চূড়ান্ত ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করা হয়নি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
৩১ একর জমিতে নির্মিত হবে নতুন সচিবালয়
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ৩১ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্মাণকাজে মোট কত টাকা ব্যয় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।
তিনি বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগটি সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় এনে সরকারি কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।
২০২৯ সালের মধ্যে নতুন সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নতুন কমপ্লেক্সে থাকবে ১৪টি ১২ তলা ভবন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বেজমেন্টসহ প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে।
এ ছাড়া কমপ্লেক্সে দুটি মসজিদ, একটি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আশপাশের এলাকায় যানজট কমানোর লক্ষ্যে আন্ডারগ্রাউন্ড সড়ক ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
সরকারের আশা, আধুনিক অবকাঠামো ও সমন্বিত দাপ্তরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। এতে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কাজের গতিও বাড়তে পারে।
পুরোনো সচিবালয়ের জায়গায় কী হবে
বর্তমান সচিবালয়ের জায়গা ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরান ঢাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিচারিক কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে আদালত বা প্রশাসনের কিছু কার্যক্রম স্থানান্তরের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে পুরোনো সচিবালয়ের জায়গায় ঠিক কী ধরনের স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন
মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, লেজিসলেটিভ বিভাগের যাচাই-বাছাই শেষে অধ্যাদেশটি জারি করা হবে। সে সময়ের বক্তব্য অনুযায়ী, পরদিন সোমবার অধ্যাদেশটি জারি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি খাতের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে উঠেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা যাবে। এসব প্রকল্পে অপারেটিং এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) ও ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স)—দুই ধরনের মডেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
ওপেক্স মডেলে মূলত পরিচালন ব্যয়ের ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালিত হবে। অন্যদিকে ক্যাপেক্স মডেলে প্রাথমিক মূলধনি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প স্থাপন করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরির প্রত্যাশা করছে সরকার।
বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানিতে আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগদান
বৈঠকে ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
এই কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নির্দিষ্ট বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক আমদানির আগে সেগুলোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করা। এর ফলে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক আমদানি করা হবে কি না, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করেছে। কনভেনশনে যোগদানের মাধ্যমে বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ বাড়বে।
সংসদ ভবনের নকশার মূল ধারণায় অনুমোদন
মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবনের নকশাসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মূল স্থাপত্যধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নকশায় নতুন কিছু সংযোজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদ ভবন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্থাপত্যকর্ম। দেশি-বিদেশি বহু মানুষ ও স্থাপত্যের শিক্ষার্থী ভবনটি দেখতে আসেন। তাই এর মূল স্থাপত্যশৈলী ও বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
নকশার মূল ধারণা অনুমোদিত হলেও বিস্তারিত নকশার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। পরবর্তী ধাপে স্থাপত্য, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, প্লাম্বিং এবং প্রকৌশল কাঠামোর বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এসব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তর, সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং সংসদ ভবনের নকশাসহ প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য।




















