০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবকাঠামোগত সমস্যা, ভোগান্তিতে এসএ এগ্রো ফিডস

হেদায়েত উল্যাহ সীমান্ত
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের মিঠাপুকুরে ভারী যানবাহনের নিরাপদ প্রবেশপথ না থাকায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে লরি-ট্রাককে। এতে বাড়ছে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়, ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহব্যবস্থা।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে জনভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। নিচু আন্ডারপাস, অপরিকল্পিত সাইড ডিভাইডার এবং ভারী যানবাহনের ইউটার্ন ও প্রবেশপথের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সড়ক অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ও শিল্পোদ্যোক্তারা।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে রংপুরের মিঠাপুকুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেড। জার্মান প্রযুক্তিনির্ভর এই কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন ফিড। বছরে উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন।

তবে কারখানার সামনে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য সরাসরি নিরাপদ প্রবেশপথ না থাকায় কাঁচামালবাহী লরি ও পণ্যবাহী ট্রাককে বিকল্প পথে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়। এ পরিস্থিতিতে কারখানার সামনে পরিকল্পিত ও নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরির দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাইড ডিভাইডারে আটকে ভারী যানবাহন

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর অংশের পাশে গড়ে ওঠা এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেড দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু মহাসড়কের সাইড ডিভাইডার এবং প্রবেশপথের সীমাবদ্ধতা প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানায় কাঁচামাল নিয়ে আসা এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য প্রতিদিনই ভারী যানবাহন চলাচল করতে হয়। অথচ কারখানার সামনে এসব যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থা নেই।

ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ৪০ ফুট দীর্ঘ হেভি ডিউটি লরি এবং পণ্যবোঝাই ভারী ট্রাককে বিকল্প পথে রংপুরের মডার্ন মোড় হয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে পরিবহনে সময় বেশি লাগছে। একই সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও পণ্য পরিবহনের ব্যয়।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথে বাড়ছে ভোগান্তি

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সাইড ডিভাইডারে যানবাহন চলাচলের জন্য ফাঁকা জায়গা রাখা হলেও সেগুলো ভারী ট্রাক ও দীর্ঘ লরির জন্য উপযোগী নয়। এসব স্থান ব্যবহার করতে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে বড় আকারের ও ভারী যানবাহন কারখানায় প্রবেশ করতে পারে না।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি করা কাঁচামাল নিয়ে আসা ৪০ ফুট দীর্ঘ লরিগুলোর চলাচলে এই সীমাবদ্ধতা বড় সমস্যা তৈরি করছে। নির্ধারিত পথে সরাসরি কারখানায় প্রবেশ করতে না পারায় বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে চালকদের।

এতে একদিকে যেমন চালকদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপ পড়ছে পরিবহনব্যবস্থায়। এর প্রভাব পড়ছে কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বাজারে প্রস্তুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায়।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির মতে, মহাসড়কের নিরাপত্তা বজায় রেখে কারখানার সামনে একটি পরিকল্পিত প্রবেশপথ তৈরি করা গেলে অপ্রয়োজনীয় ঘুরপথ এড়ানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহনব্যয় কমার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতাও বাড়বে। জানালেন, এস এ এগ্রো ফিডসের এজিএম কাজী শামীম হাসান এবং এসএ এগ্রো ফিডসের বিজনেস কনসাল্টেন্ট জিএইচ এন এরশাদ।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন, দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষা

সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে এবং ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়।

আবেদনে কারখানার সামনে সাইড ডিভাইডার অপসারণ করে ঢাকা থেকে আসা ভারী যানবাহনের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রংপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

শিল্পের স্বার্থ ও সড়ক নিরাপত্তার সমন্বয় জরুরি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, মহাসড়কে অপরিকল্পিত প্রবেশপথ তৈরি হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে শুধু ডিভাইডার অপসারণ নয়, বরং সড়কের নকশা, যানবাহনের আকার, চলাচলের চাপ এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেডের সামনে প্রকৌশলগত সমীক্ষার ভিত্তিতে নিরাপদ প্রবেশপথ বা উপযুক্ত ইউটার্ন সুবিধা তৈরি করা গেলে শিল্পকারখানার পরিবহন জটিলতা কমতে পারে। এতে সময় ও জ্বালানির অপচয় রোধের পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং মহাসড়কের নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সমস্যাটির টেকসই সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবকাঠামোগত সমস্যা, ভোগান্তিতে এসএ এগ্রো ফিডস

আপডেট সময় : ০২:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুরে ভারী যানবাহনের নিরাপদ প্রবেশপথ না থাকায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে লরি-ট্রাককে। এতে বাড়ছে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়, ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহব্যবস্থা।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে জনভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। নিচু আন্ডারপাস, অপরিকল্পিত সাইড ডিভাইডার এবং ভারী যানবাহনের ইউটার্ন ও প্রবেশপথের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সড়ক অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ও শিল্পোদ্যোক্তারা।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে রংপুরের মিঠাপুকুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেড। জার্মান প্রযুক্তিনির্ভর এই কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন ফিড। বছরে উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন।

তবে কারখানার সামনে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য সরাসরি নিরাপদ প্রবেশপথ না থাকায় কাঁচামালবাহী লরি ও পণ্যবাহী ট্রাককে বিকল্প পথে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়। এ পরিস্থিতিতে কারখানার সামনে পরিকল্পিত ও নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরির দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাইড ডিভাইডারে আটকে ভারী যানবাহন

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর অংশের পাশে গড়ে ওঠা এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেড দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু মহাসড়কের সাইড ডিভাইডার এবং প্রবেশপথের সীমাবদ্ধতা প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানায় কাঁচামাল নিয়ে আসা এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য প্রতিদিনই ভারী যানবাহন চলাচল করতে হয়। অথচ কারখানার সামনে এসব যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থা নেই।

ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ৪০ ফুট দীর্ঘ হেভি ডিউটি লরি এবং পণ্যবোঝাই ভারী ট্রাককে বিকল্প পথে রংপুরের মডার্ন মোড় হয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে পরিবহনে সময় বেশি লাগছে। একই সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও পণ্য পরিবহনের ব্যয়।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথে বাড়ছে ভোগান্তি

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সাইড ডিভাইডারে যানবাহন চলাচলের জন্য ফাঁকা জায়গা রাখা হলেও সেগুলো ভারী ট্রাক ও দীর্ঘ লরির জন্য উপযোগী নয়। এসব স্থান ব্যবহার করতে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে বড় আকারের ও ভারী যানবাহন কারখানায় প্রবেশ করতে পারে না।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি করা কাঁচামাল নিয়ে আসা ৪০ ফুট দীর্ঘ লরিগুলোর চলাচলে এই সীমাবদ্ধতা বড় সমস্যা তৈরি করছে। নির্ধারিত পথে সরাসরি কারখানায় প্রবেশ করতে না পারায় বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে চালকদের।

এতে একদিকে যেমন চালকদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপ পড়ছে পরিবহনব্যবস্থায়। এর প্রভাব পড়ছে কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বাজারে প্রস্তুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায়।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির মতে, মহাসড়কের নিরাপত্তা বজায় রেখে কারখানার সামনে একটি পরিকল্পিত প্রবেশপথ তৈরি করা গেলে অপ্রয়োজনীয় ঘুরপথ এড়ানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহনব্যয় কমার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতাও বাড়বে। জানালেন, এস এ এগ্রো ফিডসের এজিএম কাজী শামীম হাসান এবং এসএ এগ্রো ফিডসের বিজনেস কনসাল্টেন্ট জিএইচ এন এরশাদ।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন, দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষা

সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে এবং ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়।

আবেদনে কারখানার সামনে সাইড ডিভাইডার অপসারণ করে ঢাকা থেকে আসা ভারী যানবাহনের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রংপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

শিল্পের স্বার্থ ও সড়ক নিরাপত্তার সমন্বয় জরুরি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, মহাসড়কে অপরিকল্পিত প্রবেশপথ তৈরি হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে শুধু ডিভাইডার অপসারণ নয়, বরং সড়কের নকশা, যানবাহনের আকার, চলাচলের চাপ এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এসএ এগ্রো ফিডস লিমিটেডের সামনে প্রকৌশলগত সমীক্ষার ভিত্তিতে নিরাপদ প্রবেশপথ বা উপযুক্ত ইউটার্ন সুবিধা তৈরি করা গেলে শিল্পকারখানার পরিবহন জটিলতা কমতে পারে। এতে সময় ও জ্বালানির অপচয় রোধের পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং মহাসড়কের নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সমস্যাটির টেকসই সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা।