০২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার হামলার শঙ্কায় দেশে উচ্চসতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে সাইবার হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় উচ্চসতর্কতা জারি করেছে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম বিজিডি ই-গভ সার্ট (BGD e-GOV CIRT)। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এ সতর্কতা জারি করা হয়। ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিজিডি ই-গভ সার্টের পক্ষ থেকে জারি করা সতর্কতায় বলা হয়, নতুন শনাক্ত হওয়া ত্রুটি দুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকে ওয়েবসাইটের সার্ভারে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানোর ঝুঁকি রয়েছে।

পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি

সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় শনাক্ত হওয়া নিরাপত্তা ত্রুটি দুটি ‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত। ত্রুটি দুটির শনাক্তকরণ নম্বর সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ ও সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটি দুটির ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২। অর্থাৎ, এগুলোকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পিএইচপি ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। বিশ্বের অসংখ্য ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ভাষার নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগানো হলে একাধিক ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দূর থেকেই সার্ভারে প্রবেশের আশঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ত্রুটি দুটি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে আক্রমণকারীরা ওয়েবসাইটের সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।

সফলভাবে সার্ভারে প্রবেশ করতে পারলে হ্যাকাররা ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানো, সংরক্ষিত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম ব্যাহত করার সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঝুঁকি উদ্বেগের কারণ।

সতর্ক অবস্থানে ব্যাংক ও অনলাইন সেবা

নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন কোন ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে এবং সেগুলো কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্বজুড়েও এ নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা জারির পর কিছু ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয়

এ ধরনের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সার্ভার ও সফটওয়্যারের নিরাপত্তা হালনাগাদ রাখা, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপদ ব্যাকআপ সংরক্ষণ এবং সার্ভারের লগ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাইবার হামলার শঙ্কায় দেশে উচ্চসতর্কতা জারি

আপডেট সময় : ১২:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশে সাইবার হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় উচ্চসতর্কতা জারি করেছে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম বিজিডি ই-গভ সার্ট (BGD e-GOV CIRT)। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এ সতর্কতা জারি করা হয়। ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিজিডি ই-গভ সার্টের পক্ষ থেকে জারি করা সতর্কতায় বলা হয়, নতুন শনাক্ত হওয়া ত্রুটি দুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকে ওয়েবসাইটের সার্ভারে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানোর ঝুঁকি রয়েছে।

পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি

সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় শনাক্ত হওয়া নিরাপত্তা ত্রুটি দুটি ‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত। ত্রুটি দুটির শনাক্তকরণ নম্বর সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ ও সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটি দুটির ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২। অর্থাৎ, এগুলোকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পিএইচপি ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। বিশ্বের অসংখ্য ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ভাষার নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগানো হলে একাধিক ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দূর থেকেই সার্ভারে প্রবেশের আশঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ত্রুটি দুটি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে আক্রমণকারীরা ওয়েবসাইটের সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।

সফলভাবে সার্ভারে প্রবেশ করতে পারলে হ্যাকাররা ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানো, সংরক্ষিত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম ব্যাহত করার সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঝুঁকি উদ্বেগের কারণ।

সতর্ক অবস্থানে ব্যাংক ও অনলাইন সেবা

নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন কোন ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে এবং সেগুলো কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্বজুড়েও এ নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা জারির পর কিছু ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয়

এ ধরনের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সার্ভার ও সফটওয়্যারের নিরাপত্তা হালনাগাদ রাখা, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপদ ব্যাকআপ সংরক্ষণ এবং সার্ভারের লগ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।