প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ৩৯ হাজার কৃষকের অ্যাকাউন্টে ১২ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক ক্লিকেই রাজশাহীর ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে গেছে ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ল্যাপটপের বাটন চেপে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রণোদনার টাকা জমা হওয়ার পর কৃষকদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে যায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসে আখচাষিদের জন্য এ প্রণোদনা বিতরণ করেন তারেক রহমান। জনসভার প্রথম পর্বে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করে তিনি বলেন, ৩৮ হাজার ৯৭০ জন কৃষককে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের পরে রাজশাহীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাঁর রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছানোয় কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন তিনি। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সময়স্বল্পতার কারণে নগরের গণকপাড়ায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন এবং সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
১৫ চিনিকল এলাকার আখচাষিরা পেলেন প্রণোদনা
আখচাষিদের সহায়তায় সরকারের এ উদ্যোগের আওতায় ১৫টি চিনিকল এলাকার কৃষকদের জন্য প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম চালু করেন। ফলে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পৌঁছে যায়।
প্রণোদনা বিতরণ শেষে জনসভার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্য ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে।
জনসভা ঘিরে রাজশাহীতে ব্যাপক প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহী নগরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথের বিভিন্ন সড়কে সংস্কার, পিচ ঢালাই ও রং করার কাজ করা হয়। পাশাপাশি দেয়ালে চিত্র আঁকা, ড্রেন মেরামত এবং ফুটপাত থেকে হকার সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সড়কগুলো পরিচ্ছন্ন করা হয়।
জনসভার জন্য ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বড় মঞ্চ তৈরি করা হয়। মাঠের উঁচু-নিচু অংশ সমান করার কাজও করা হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে মাঠে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির কাজ তদারকি করেন।
সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল
জনসভা বিকালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তাঁরা জনসভাস্থলে আসেন। দুপুর আড়াইটার মধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর থেকেই মঞ্চে দলের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাজারো মানুষ। হাতে পতাকা নিয়ে অপেক্ষা করেন অনেকে। নেতাকর্মীদের স্বাগত জানানো এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
রাজশাহী সফর শেষে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে তিনি রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন।

























