৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারীর আপিল খারিজ, মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল
- আপডেট সময় : ১২:৫১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার দুই সহযোগীর আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর লক্ষ্যে করা তাদের আবেদন নাকচ হলো। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তাদের মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্তভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের আদেশের তালিকায় খালিদ শেখ মোহাম্মদ বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানানোর কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে আদালতের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার কারণে বিচারপতি ব্রেট কাভানা মামলাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
২০২৪ সালের সমঝোতা বাতিলের পর আইনি লড়াই
২০২৪ সালে এই তিন আসামির সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের একটি সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, তারা দোষ স্বীকার করে বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মত হলে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে অন্য সাজা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল।
তবে ৯/১১ হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তির মুখে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতাটি বাতিল করেন। তিনি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব কেবল তাঁরই নেওয়া উচিত।
সমঝোতা বাতিলের পর খালিদ শেখ মোহাম্মদ, ওয়ালিদ বিন আত্তাশ ও মুস্তফা আল-হাউসাউই আইনি লড়াই শুরু করেন। একটি সামরিক আদালত প্রাথমিক পর্যায়ে আসামিদের পক্ষে রায় দিলেও পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ডিসি সার্কিটের আপিল আদালত অস্টিনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এরপর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সর্বশেষ আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁদের আপিল আর শুনানি পর্যন্ত গড়ায়নি।
গুয়ান্তানামো কারাগারে বন্দি তিন আসামি
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চালানো হামলার ঘটনায় এই তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে প্রথম সামরিক চার্জশিট গঠন করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে তাঁরা কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
দীর্ঘ আইনি জটিলতার কারণে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া বারবার বিলম্বিত হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জুনে সামরিক আদালতে তাঁদের বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় ২৫ বছর পর এই মামলায় সাজা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগোতে চায় মার্কিন সরকার।
তবে সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পরও বিচারপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে সামরিক আদালতের কার্যক্রম ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: অ্যাক্সিওস, বাংলা ট্রিবিউন


























