০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কোহলিকে ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স—ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দুই তারকা। ভারতীয় ব্যাটিং সুপারস্টার কোহলি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সের বন্ধুত্বের গল্প ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) হয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলেছেন তারা। তবে এই বন্ধুত্বের শুরুটা হয়েছিল ভিন্ন এক ধারণা দিয়ে। প্রথমবার কোহলিকে দেখে তাকে ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের।

সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে কোহলিকে ঘিরে নিজের সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার। প্রথম দেখায় কোহলিকে কেমন মনে হয়েছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি অকপটে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন।

ডি ভিলিয়ার্স বলেন, প্রথমবার কোহলিকে দেখে তার মনে হয়েছিল, ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও দাম্ভিক। এমনকি কোহলিও যে তার এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হতে পারেন, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আত্মবিশ্বাস ও অহংকারের মধ্যে পার্থক্য

কোহলিকে নিয়ে প্রথম দিকের ধারণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, আত্মবিশ্বাস এবং অহংকারের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। অনেক সময় একজন খেলোয়াড়ের প্রবল আত্মবিশ্বাসকে অন্যরা অহংকার হিসেবে বিবেচনা করেন। কোহলির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা এমন ছিল বলে মনে করেন তিনি।

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কোহলি ছিলেন প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। তখন তার বয়স ছিল প্রায় ১৯ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। বড় ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জন্য নিজের সামর্থ্যের ওপর এমন দৃঢ় বিশ্বাস থাকা জরুরি। তবে সেই আত্মবিশ্বাস কীভাবে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ভালোভাবেই শিখেছেন কোহলি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই অধিনায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণ বয়সে কোহলির সামনে নিজেকে প্রমাণ করার অনেক কিছু ছিল। নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে অন্যদের বিশ্বাস করানো এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা শক্ত করার তাগিদও ছিল তার মধ্যে। বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তাগিদ ধীরে ধীরে কমেছে।

সময়ের সঙ্গে বদলেছেন কোহলি

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, সময়ের সঙ্গে কোহলির ব্যক্তিত্বেও পরিবর্তন এসেছে। আগে নিজের সামর্থ্য প্রকাশ করতে যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজন হতো, এখন আর তার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। নিজের যোগ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ায় কোহলি এখন অনেক বেশি পরিণত।

ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সাফল্য, অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স একজন খেলোয়াড়ের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে পারে। কোহলির ক্ষেত্রেও তেমন পরিবর্তন দেখেছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, নিজের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে সঠিকভাবে ব্যবহার করার দক্ষতা কোহলি অর্জন করেছেন।

আরসিবিতে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব

প্রথম দেখায় কোহলিকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আইপিএলে আরসিবির হয়ে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ড্রেসিংরুমে সময় কাটানো, অনুশীলন এবং মাঠের লড়াইয়ে একে অপরের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

আরসিবির জার্সিতে কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং জুটি দীর্ঘদিন দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দলের জন্য অবদান রাখার মানসিকতা তাদের সম্পর্ককে বিশেষ মাত্রা দেয়।

একসময় যাকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও দাম্ভিক মনে হয়েছিল, সেই কোহলিই পরবর্তী সময়ে ডি ভিলিয়ার্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। প্রথম দেখার সেই ধারণা থেকে বর্তমান বন্ধুত্বের পথচলা তাই ক্রিকেটের মাঠের বাইরেও দুই তারকার সম্পর্কের পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কোহলিকে ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের

আপডেট সময় : ০৪:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স—ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দুই তারকা। ভারতীয় ব্যাটিং সুপারস্টার কোহলি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সের বন্ধুত্বের গল্প ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) হয়ে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলেছেন তারা। তবে এই বন্ধুত্বের শুরুটা হয়েছিল ভিন্ন এক ধারণা দিয়ে। প্রথমবার কোহলিকে দেখে তাকে ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের।

সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে কোহলিকে ঘিরে নিজের সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার। প্রথম দেখায় কোহলিকে কেমন মনে হয়েছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি অকপটে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন।

ডি ভিলিয়ার্স বলেন, প্রথমবার কোহলিকে দেখে তার মনে হয়েছিল, ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও দাম্ভিক। এমনকি কোহলিও যে তার এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হতে পারেন, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আত্মবিশ্বাস ও অহংকারের মধ্যে পার্থক্য

কোহলিকে নিয়ে প্রথম দিকের ধারণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, আত্মবিশ্বাস এবং অহংকারের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। অনেক সময় একজন খেলোয়াড়ের প্রবল আত্মবিশ্বাসকে অন্যরা অহংকার হিসেবে বিবেচনা করেন। কোহলির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা এমন ছিল বলে মনে করেন তিনি।

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কোহলি ছিলেন প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। তখন তার বয়স ছিল প্রায় ১৯ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। বড় ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জন্য নিজের সামর্থ্যের ওপর এমন দৃঢ় বিশ্বাস থাকা জরুরি। তবে সেই আত্মবিশ্বাস কীভাবে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ভালোভাবেই শিখেছেন কোহলি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই অধিনায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণ বয়সে কোহলির সামনে নিজেকে প্রমাণ করার অনেক কিছু ছিল। নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে অন্যদের বিশ্বাস করানো এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা শক্ত করার তাগিদও ছিল তার মধ্যে। বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তাগিদ ধীরে ধীরে কমেছে।

সময়ের সঙ্গে বদলেছেন কোহলি

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, সময়ের সঙ্গে কোহলির ব্যক্তিত্বেও পরিবর্তন এসেছে। আগে নিজের সামর্থ্য প্রকাশ করতে যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজন হতো, এখন আর তার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। নিজের যোগ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ায় কোহলি এখন অনেক বেশি পরিণত।

ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সাফল্য, অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স একজন খেলোয়াড়ের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে পারে। কোহলির ক্ষেত্রেও তেমন পরিবর্তন দেখেছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, নিজের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে সঠিকভাবে ব্যবহার করার দক্ষতা কোহলি অর্জন করেছেন।

আরসিবিতে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব

প্রথম দেখায় কোহলিকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আইপিএলে আরসিবির হয়ে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ড্রেসিংরুমে সময় কাটানো, অনুশীলন এবং মাঠের লড়াইয়ে একে অপরের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

আরসিবির জার্সিতে কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং জুটি দীর্ঘদিন দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দলের জন্য অবদান রাখার মানসিকতা তাদের সম্পর্ককে বিশেষ মাত্রা দেয়।

একসময় যাকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও দাম্ভিক মনে হয়েছিল, সেই কোহলিই পরবর্তী সময়ে ডি ভিলিয়ার্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। প্রথম দেখার সেই ধারণা থেকে বর্তমান বন্ধুত্বের পথচলা তাই ক্রিকেটের মাঠের বাইরেও দুই তারকার সম্পর্কের পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।