পিএসসিকে দলীয়করণের চেষ্টা, প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি শিবিরের
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) দলীয়করণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া কমিশনে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। রাজনৈতিক স্বার্থে পিএসসিকে ব্যবহার করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও জানিয়েছে তারা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব কথা বলেন।
পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে উদ্বেগ
পিএসসির চেয়ারম্যান ও একের পর এক সদস্যের আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্রশিবিরের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, ৫৪ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বারবার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান চেতনা ছিল মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী পিএসসিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
তাঁদের দাবি, জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার পরিবর্তে কমিশনে আবারও দলীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নেতৃত্ব পরিবর্তনের অভিযোগ
ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পিএসসির চেয়ারম্যান ও একের পর এক সদস্যকে কৌশলে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কথা বলা হলেও ক্ষমতায় এসে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। উচ্চ আদালত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা, প্রশ্নফাঁস, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের বাদ দেওয়া এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মতো ঘটনাকে তাঁরা এ প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছাত্রশিবিরের নেতাদের মতে, স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা সুসংহত করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পিএসসির শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিক পরিবর্তনও সেই পরিকল্পনার অংশ কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের কাছে তথ্য এসেছে যে একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে ওই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
নেতারা বলেন, কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। পিএসসিকে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা পূরণের হাতিয়ারে পরিণত করার অধিকার কারও নেই।
তাঁদের ভাষ্য, পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দলীয় নিয়োগ দেওয়া হলে রাজপথে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি
ছাত্রশিবিরের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া পিএসসিতে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বিবৃতিতে পিএসসিকে সব ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এ লক্ষ্যে জুলাই সনদের আলোকে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পিএসসি পুনর্গঠন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।




















