০২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ভাসছে অগণিত আইফোন- সংগ্রহে ছুটছেন ইরানিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য। এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে সমুদ্রে ছুটছেন শত শত ইরানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পানিতে ভাসতে থাকা কনটেইনারের আশপাশে নৌকা নিয়ে ঘুরছেন স্থানীয় লোকজন। কেউ কেউ ঢেউয়ের মধ্য থেকে বাক্স টেনে তোলার চেষ্টা করছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর হরমুজ প্রণালিতে ডুবে যায় পণ্যবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর এতে থাকা বিভিন্ন পণ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। আর এসব পণ্য সংগ্রহের আশায় ছোট নৌকা ও উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আইফোন ও সুগন্ধি সংগ্রহে শত শত মানুষ

ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে ভোরবেলা সাধারণত জেলেদের মাছ ধরতে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু এবার মাছের পরিবর্তে সমুদ্রে ভেসে থাকা দামি পণ্য সংগ্রহের আশায় নৌকা নিয়ে বের হয়েছেন অনেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া জাহাজের কনটেইনার থেকে ছড়িয়ে পড়া আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করতে সেখানে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ।

একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তারা দলবদ্ধভাবে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছেন। একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা আইফোন ও সুগন্ধি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

প্রকাশিত ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, পানিতে আংশিক ডুবে থাকা কনটেইনারগুলোর মাঝ দিয়ে কয়েক ডজন নৌকা চলাচল করছে। নৌকায় থাকা লোকজন ঢেউয়ের মধ্য থেকে বিভিন্ন বাক্স টেনে তুলছেন। একটি ভিডিওতে ছোট একটি নৌকাকে বিশাল আকারের একটি শিপিং কনটেইনার টেনে নিয়ে যেতেও দেখা যায়।

কীভাবে ডুবল জিএফএস প্রাইড

জাহাজটির নিবন্ধনকারী দেশ সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে আগুন লাগার পর সেটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তাদের দাবি, জাহাজটি একটি ‘অননুমোদিত ও বিপজ্জনক’ পথে চলাচল করছিল। একপর্যায়ে এটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে। এতে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায় এবং জাহাজটি ডুবে যায়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জাহাজটিতে ২ হাজার ৫০০টির বেশি কনটেইনার ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় এসব কনটেইনারের বিপুল পরিমাণ পণ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে।

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় জাহাজ চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় জাহাজের ওপর আইআরজিসির হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি পানিতে ভাসমান কনটেইনারের আশপাশ দিয়ে সাবধানে চলাচল করতে স্থানীয় জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর অধিকাংশ ডুবে যায়নি। তবে জিএফএস প্রাইড ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় জাহাজ এবং চলমান যুদ্ধে ডুবে যাওয়া তৃতীয় জাহাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হামলায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজ কেপ দাও ডুবে যায়।

জাহাজডুবির ঘটনায় সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া পণ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয়দের এই তৎপরতা দেখা গেলেও পানিতে ভাসমান কনটেইনারের আশপাশে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যুদ্ধকবলিত এলাকায় বিস্ফোরক, ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনার ও উত্তাল পানির কারণে উদ্ধারকাজে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

হরমুজ প্রণালিতে ভাসছে অগণিত আইফোন- সংগ্রহে ছুটছেন ইরানিরা

আপডেট সময় : ০১:২৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য। এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে সমুদ্রে ছুটছেন শত শত ইরানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পানিতে ভাসতে থাকা কনটেইনারের আশপাশে নৌকা নিয়ে ঘুরছেন স্থানীয় লোকজন। কেউ কেউ ঢেউয়ের মধ্য থেকে বাক্স টেনে তোলার চেষ্টা করছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর হরমুজ প্রণালিতে ডুবে যায় পণ্যবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর এতে থাকা বিভিন্ন পণ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। আর এসব পণ্য সংগ্রহের আশায় ছোট নৌকা ও উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আইফোন ও সুগন্ধি সংগ্রহে শত শত মানুষ

ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে ভোরবেলা সাধারণত জেলেদের মাছ ধরতে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু এবার মাছের পরিবর্তে সমুদ্রে ভেসে থাকা দামি পণ্য সংগ্রহের আশায় নৌকা নিয়ে বের হয়েছেন অনেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া জাহাজের কনটেইনার থেকে ছড়িয়ে পড়া আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করতে সেখানে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ।

একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তারা দলবদ্ধভাবে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছেন। একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা আইফোন ও সুগন্ধি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

প্রকাশিত ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, পানিতে আংশিক ডুবে থাকা কনটেইনারগুলোর মাঝ দিয়ে কয়েক ডজন নৌকা চলাচল করছে। নৌকায় থাকা লোকজন ঢেউয়ের মধ্য থেকে বিভিন্ন বাক্স টেনে তুলছেন। একটি ভিডিওতে ছোট একটি নৌকাকে বিশাল আকারের একটি শিপিং কনটেইনার টেনে নিয়ে যেতেও দেখা যায়।

কীভাবে ডুবল জিএফএস প্রাইড

জাহাজটির নিবন্ধনকারী দেশ সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে আগুন লাগার পর সেটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তাদের দাবি, জাহাজটি একটি ‘অননুমোদিত ও বিপজ্জনক’ পথে চলাচল করছিল। একপর্যায়ে এটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে। এতে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায় এবং জাহাজটি ডুবে যায়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জাহাজটিতে ২ হাজার ৫০০টির বেশি কনটেইনার ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় এসব কনটেইনারের বিপুল পরিমাণ পণ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে।

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় জাহাজ চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় জাহাজের ওপর আইআরজিসির হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি পানিতে ভাসমান কনটেইনারের আশপাশ দিয়ে সাবধানে চলাচল করতে স্থানীয় জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর অধিকাংশ ডুবে যায়নি। তবে জিএফএস প্রাইড ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় জাহাজ এবং চলমান যুদ্ধে ডুবে যাওয়া তৃতীয় জাহাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হামলায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজ কেপ দাও ডুবে যায়।

জাহাজডুবির ঘটনায় সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া পণ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয়দের এই তৎপরতা দেখা গেলেও পানিতে ভাসমান কনটেইনারের আশপাশে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যুদ্ধকবলিত এলাকায় বিস্ফোরক, ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনার ও উত্তাল পানির কারণে উদ্ধারকাজে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।