দিল্লির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। মুম্বাইয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এই অভিনেতাকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে। ইমরান খান বলিউড সুপারস্টার আমির খানের ভাতিজা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা কিরিত সোমাইয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ইমরান খান রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। পরে বিষয়টি এফআরআরওর কাছে পাঠানো হয়। এরপর সংস্থাটি তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইমরান খানের কাছে নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অভিনেতা বর্তমানে মুম্বাইয়ের খার এলাকায় বসবাস করেন।
কেন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান?
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান খান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনে নামেন।
ওই কর্মসূচিতে ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন, মা নুসরাত এবং আত্মীয় জাইন মেরিসও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুলিশ তাঁদেরসহ প্রায় ৪০০ জনকে আটক করে।
পরে জাইন অভিযোগ করেন, আটকের সময় পুলিশ তাঁকে মারধর ও হেনস্তা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথাও তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিজেপি নেতার
বিজেপি নেতা কিরিত সোমাইয়া ইমরান খানকে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁর নাগরিকত্ব ও ভারতে অবস্থানের বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
সোমাইয়ার অভিযোগের মূল বিষয় ছিল, একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে ইমরান খান রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন কি না। তাঁর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
এরপর এফআরআরওর পক্ষ থেকে ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে যা বলেছিলেন অভিনেতা
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন ইমরান খান। তিনি বলেছিলেন, কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো দাবি নিয়ে তিনি সেখানে যাননি। বরং মুম্বাইয়ের বাসিন্দা হিসেবে ব্যক্তিগত অবস্থান থেকেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
ইমরানের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা কেন সীমিত করা হচ্ছে এবং মানুষের কণ্ঠস্বর কেন রুদ্ধ করা হচ্ছে, তা দেখতেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত অবস্থানের বিষয়টি উঠে আসে। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ এখন আলোচনায় এসেছে।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, এ বিষয়ে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ বা নোটিশের বিরুদ্ধে কোনো আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
ঘটনাটি বলিউড অঙ্গনের পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ওসিআই কার্ডধারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে ইমরান খানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্য এবং অভিনেতার প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।




















