০১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। এ ছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি.এম. তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিয়ামকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কী অভিযোগ ছিল সিয়ামের বিরুদ্ধে?

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে সিয়াম ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলাটি করেন। পরে তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।

তদন্তে সিয়ামের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এই সম্পদই আদালতের নির্দেশে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

যেভাবে এগিয়েছে মামলার বিচার

মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচনায় এসেছিলেন সিয়াম

সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম পিএসসির আলোচিত প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। সিয়াম একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর আবেদ আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে সিয়ামের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দুর্নীতির মামলায় আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ১২:১৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। এ ছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি.এম. তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিয়ামকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কী অভিযোগ ছিল সিয়ামের বিরুদ্ধে?

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে সিয়াম ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলাটি করেন। পরে তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।

তদন্তে সিয়ামের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এই সম্পদই আদালতের নির্দেশে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

যেভাবে এগিয়েছে মামলার বিচার

মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচনায় এসেছিলেন সিয়াম

সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম পিএসসির আলোচিত প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। সিয়াম একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর আবেদ আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে সিয়ামের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।