নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৯ বার পড়া হয়েছে
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভেজালবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে তিনি মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যানটির কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানেন তিনি।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিচে রাখা ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী এর বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। খাদ্যের নমুনা কীভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং কীভাবে তা পরীক্ষা করা হয়, সে প্রক্রিয়াও তাঁকে দেখানো হয়।
৬৪ জেলায় ভেজালবিরোধী কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করতে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল শনাক্তকরণ, নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক আইন বাস্তবায়ন এবং খাদ্যপণ্যের মান তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সংগ্রহ করা হচ্ছে ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ভ্যান
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ভ্যান সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য পরীক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারগুলো ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা সম্ভব হবে। ফলে খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা যাচাইয়ের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় আরও সহজে পরিচালনা করা যাবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তদারকি
কর্মকর্তারা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত হলে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার করা হচ্ছে ভিডিও
শুধু খাদ্য পরীক্ষা নয়, নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারগুলোতে। এসব ভ্যানের বাইরের দিকে স্থাপিত মনিটরে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়।
এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, খাদ্যপণ্যের মান যাচাই এবং ভেজাল খাবারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যারা
ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জনপ্রশাসনসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দেশের আটটি মহানগর থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা তদারকির আওতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ৭২টি নতুন ভ্যান সংগ্রহের উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।






















