পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভবন-সড়কে ধস
- আপডেট সময় : ০১:৫৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও সড়ক ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ৮০টির বেশি আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করেছে দেশটির সরকার। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আঘাত হানা ভূমিকম্পে পানামার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ঘটনাটিকে বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পানামা সিটিতে আতঙ্ক, ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে পানামা সিটিতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কিত হয়ে সুউচ্চ ভবনগুলো থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। প্রায় এক মিনিট ধরে কম্পন স্থায়ী হয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সিভিল প্রোটেকশন সিস্টেম।
পানামা সিটির বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী সালোমন অ্যান্ডিওন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, কম্পন এতটাই শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ছিল যে তিনি ভয় পেয়ে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রেসার, বিছানা ও রান্নাঘরের জিনিসপত্রসহ ভারী বস্তুগুলোও কাঁপছিল। আফটারশক অনুভূত হওয়ার পর তিনি নিজের ১৫ তলা ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি সুউচ্চ ভবনের ছাদের সুইমিং পুল থেকে পানি নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে পানামা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতুকে তীব্রভাবে কাঁপতে দেখা গেছে। তবে কম্পনের মধ্যেও সেতুটি দাঁড়িয়ে ছিল।
‘বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি’
প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, ‘আমরা বড় ধরনের একটি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি। কিছু সড়ক পুরোপুরি ধসে পড়েছে।’
দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম সমন্বয় করতে তিনি পেনোনোমে যান। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফার্নান্দো বয়েড জানান, হেরেরা ও কোকলে প্রদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লস সান্তোস প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কোকলে প্রদেশের পেনোনোমে শহরের একটি দোকানের ক্যাশিয়ার হুয়ানা আলভেও এএফপিকে বলেন, এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে কখনো হয়নি। ভূমিকম্পের সময় তাঁর মেয়ে স্কুলে আটকা পড়েছিল বলেও জানান তিনি।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল যেখানে
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল মধ্যাঞ্চলীয় হেরেরা প্রদেশের পিতালোজা আরিবা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৮.০ বলে জানিয়েছিল ইউএসজিএস। পরে তা সংশোধন করে ৭.৭ নির্ধারণ করা হয়।
ভূমিকম্পের পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে অবশ্য সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। এদিকে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানামা সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকটি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালার নেতারা পানামার প্রতি সংহতি জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
৮০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড
পানামায় বড় ধরনের ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল। সাধারণত কোস্টারিকা সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় চিরিকি প্রদেশে এ ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো মার্তিনেল্লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভেরাগুয়াস প্রদেশের সোনা শহরে তাঁর বাড়ি ধসে পড়ার ছবি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে পেনোনোমের একটি গির্জা ও হোটেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও দেখা গেছে।
স্থানীয় ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পের পর ৮০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬.০-এর বেশি।
চলতি বছর লাতিন আমেরিকায় ৭.০-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের এটি অন্তত চতুর্থ ঘটনা। এর আগে জুনে ভেনেজুয়েলার গুয়াইরায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং আগস্টে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।




















