০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ায় আগামী কয়েক মাসে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-গালফ অঞ্চলের সংঘাতের কারণে একই সঙ্গে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অর্থনীতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ। তেলের সরবরাহ নিরাপত্তা এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ একসঙ্গে কাজ করায় বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এর ফলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার পরিবর্তে আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। জ্বালানির মূল্য বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

শস্য সরবরাহেও তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি

খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রফতানিকারক দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে বাধার মুখে পড়তে পারে।

বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে খাদ্য সরবরাহ কমে যেতে পারে। এর প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সার সংকট বাড়াতে পারে খাদ্যঝুঁকি

খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি সার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সার উৎপাদনকারী দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত।

এসব অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সার উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে খাদ্য সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাদ্য ও জ্বালানির সঙ্গে অর্থের চাপ

জয়শঙ্করের মতে, খাদ্য ও সারের সংকটের সঙ্গে জ্বালানি এবং অর্থের প্রবাহে চাপ যুক্ত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

কোনো অঞ্চলে সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে অর্থ সরিয়ে নিতে পারেন। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বিনিয়োগ ও অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এল নিনোর প্রভাব নিয়েও শঙ্কা

ভূরাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তন খাদ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জয়শঙ্কর। বিশেষ করে ‘সুপার এল নিনো’র মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে কৃষি উৎপাদনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি, খাদ্য, সার, অর্থায়ন এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি একই সময়ে সক্রিয় হলে আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত নীতির আহ্বান

জয়শঙ্কর বলেন, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে কোনো দেশের নীতিনির্ধারণ শুধু নিজেদের স্বার্থকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত নয়। একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্য দেশের মৌলিক প্রয়োজন ও অর্থনীতিতে কীভাবে পড়তে পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশের পরিস্থিতি একই হবে না। কিছু দেশ নিজেদের নীতিগত স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারলেও অন্য দেশগুলোর জন্য তা কঠিন হতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এশিয়ায় আগামী কয়েক মাসে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-গালফ অঞ্চলের সংঘাতের কারণে একই সঙ্গে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অর্থনীতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ। তেলের সরবরাহ নিরাপত্তা এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ একসঙ্গে কাজ করায় বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এর ফলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার পরিবর্তে আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। জ্বালানির মূল্য বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

শস্য সরবরাহেও তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি

খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রফতানিকারক দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে বাধার মুখে পড়তে পারে।

বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে খাদ্য সরবরাহ কমে যেতে পারে। এর প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সার সংকট বাড়াতে পারে খাদ্যঝুঁকি

খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি সার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সার উৎপাদনকারী দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত।

এসব অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সার উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে খাদ্য সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাদ্য ও জ্বালানির সঙ্গে অর্থের চাপ

জয়শঙ্করের মতে, খাদ্য ও সারের সংকটের সঙ্গে জ্বালানি এবং অর্থের প্রবাহে চাপ যুক্ত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

কোনো অঞ্চলে সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে অর্থ সরিয়ে নিতে পারেন। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বিনিয়োগ ও অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এল নিনোর প্রভাব নিয়েও শঙ্কা

ভূরাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তন খাদ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জয়শঙ্কর। বিশেষ করে ‘সুপার এল নিনো’র মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে কৃষি উৎপাদনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি, খাদ্য, সার, অর্থায়ন এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি একই সময়ে সক্রিয় হলে আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত নীতির আহ্বান

জয়শঙ্কর বলেন, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে কোনো দেশের নীতিনির্ধারণ শুধু নিজেদের স্বার্থকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত নয়। একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্য দেশের মৌলিক প্রয়োজন ও অর্থনীতিতে কীভাবে পড়তে পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশের পরিস্থিতি একই হবে না। কিছু দেশ নিজেদের নীতিগত স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারলেও অন্য দেশগুলোর জন্য তা কঠিন হতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সূত্র: দ্য হিন্দু