ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি শেষে দেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, সফরে মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, চারটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয় গুরুত্ব পায়।
জাতিসংঘে বাংলায় প্রথম ভাষণ
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ। এতে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বশান্তির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
ভাষণে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারের ‘৩-আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন। এই কৌশলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের প্রত্যাবাসন উদ্যোগ
জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চান তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ু ও পরিবেশে বড় পরিকল্পনা
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ও পণ্যবাহী কনটেইনার চলাচল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিষয় গুরুত্ব পায়।
বিনিয়োগ আকর্ষণেও গুরুত্ব
নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও তরুণদের কর্মসংস্থান
জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, শিশু, নারী, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন।
স্বাস্থ্য খাতে ভবিষ্যতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী কর্মী এবং মিডওয়াইফারি খাতে ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের কূটনীতিতে ব্যস্ত সফর
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাবে, ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী এখন ঢাকার পথে। তাঁর নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, জ্বালানি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে।



























