০২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের, ফের হামলার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও মার্কিন বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে নিজের সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইরানের এই উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অনাগ্রহ রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরানের শর্ত

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবি জানিয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া হয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই প্রস্তাব গ্রহণে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো আগ্রহ নেই বলে ইরানকে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি।

ওই মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামে চিহ্নিত করা হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়তে পারে।

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে ইরানের ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করার পাশাপাশি দেশটির সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব বক্তব্যের মধ্যেই এবার ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর সামনে এলো।

ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কমবে, নাকি সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে—তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নভেম্বরের পর ফের বিমান হামলার আলোচনা

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প তার সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানকে সামরিকভাবে আরও চাপ দেওয়ার হুমকি দিলেও বড় ধরনের নতুন হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত অনেকাংশে সংযত অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান সরকারের কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার চেয়ে দেশটিতে ‘অনিবার্য পতন’ ঘটতে দেওয়াই ট্রাম্পের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। তার এই মন্তব্য ইরান প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে।

বাড়ছে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা

ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসার পরও যুক্তরাষ্ট্রের তা প্রত্যাখ্যানের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার বদলে আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে তেহরান যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান আগ্রহের বিষয়।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের, ফের হামলার ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও মার্কিন বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে নিজের সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইরানের এই উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অনাগ্রহ রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরানের শর্ত

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবি জানিয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া হয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই প্রস্তাব গ্রহণে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো আগ্রহ নেই বলে ইরানকে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি।

ওই মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামে চিহ্নিত করা হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়তে পারে।

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে ইরানের ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করার পাশাপাশি দেশটির সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব বক্তব্যের মধ্যেই এবার ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর সামনে এলো।

ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কমবে, নাকি সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে—তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নভেম্বরের পর ফের বিমান হামলার আলোচনা

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প তার সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানকে সামরিকভাবে আরও চাপ দেওয়ার হুমকি দিলেও বড় ধরনের নতুন হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত অনেকাংশে সংযত অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান সরকারের কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার চেয়ে দেশটিতে ‘অনিবার্য পতন’ ঘটতে দেওয়াই ট্রাম্পের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। তার এই মন্তব্য ইরান প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে।

বাড়ছে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা

ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসার পরও যুক্তরাষ্ট্রের তা প্রত্যাখ্যানের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার বদলে আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে তেহরান যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান আগ্রহের বিষয়।