নিপীড়ন-নির্যাতনেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নিপীড়নের মধ্যেও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন গাজী
রুহুল কবির রিজভী বলেন, রুহুল আমিন গাজী এমন একজন মানুষ ছিলেন, যাকে ফ্যাসিবাদের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেওয়ানো সম্ভব হয়নি। নানা ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের একটি অংশ যখন ক্ষমতাসীনদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তখন রুহুল আমিন গাজীর মতো সাংবাদিকরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
প্রেস ক্লাব থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল
রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অবরুদ্ধ ছিল। সে সময় জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি গণতান্ত্রিক পরিসর হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। প্রেস ক্লাবের ভেতরে সাংবাদিকরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
তবে প্রেস ক্লাবও রাজনৈতিক চাপ ও আক্রমণ থেকে মুক্ত ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকেই রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রেস ক্লাবের ভেতরে পুলিশ ঢুকে একজন সাংবাদিক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বিরল। এর মধ্য দিয়ে সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায়।
বিরোধী দলের কর্মসূচির অধিকার থাকা জরুরি
রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের আক্রমণের মুখে এক ইঞ্চি বা দুই ইঞ্চি গণতান্ত্রিক পরিসরও রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিরোধী দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়। রোড মার্চ ও লং মার্চেও হামলা ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কথা বলা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকা অত্যাবশ্যক। বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা।
বক্তব্যে তথ্যভিত্তিক সমালোচনার আহ্বান
রাজনৈতিক বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা থাকতে পারে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তবে সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্যে বাগাড়ম্বর থাকতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য উপযোগী নয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এ ছাড়া কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাছিরসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে রুহুল আমিন গাজীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।






















