সরকারি দরপত্রে কম অভিজ্ঞতা ও মূলধনেও অংশ নেওয়ার সুযোগ
- আপডেট সময় : ০২:১২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
সরকারি কেনাকাটা ও নির্মাণকাজের দরপত্র প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং দীর্ঘদিন সরকারি কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের জন্য টেন্ডারে অংশগ্রহণের পথ সহজ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সরকারি দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা এবং উচ্চ বার্ষিক টার্নওভারের বাধ্যতামূলক শর্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। তবে কাজের ধরন, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত আরোপের সুযোগও থাকবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২১তম বৈঠকে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। পরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে তা আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ বাড়বে
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারি টেন্ডারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু অতীতের কাজের অভিজ্ঞতা বা বড় অঙ্কের বার্ষিক লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা থাকা নতুন প্রতিষ্ঠানও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ ধরনের বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী সংস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত দিতে পারবে।
আন্তর্জাতিক দরপত্রেও পরিবর্তন
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রেও নতুন বিধানের কথা বলা হয়েছে। বিদেশি ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দেশীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বা জয়েন্ট ভেঞ্চার গঠনের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত করার আগে লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
টিআইবির সতর্কতা
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন কোনো দরদাতার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকলে এবং তিনি নির্ধারিত কারিগরি শর্ত পূরণ করতে পারলে এ ধরনের বিধান ইতিবাচক হতে পারে।
তবে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছাড়া রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি। বিশেষ পরিস্থিতিতে আলাদা শর্ত আরোপের সুযোগ পক্ষপাতিত্বের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইন সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির এই কর্মকর্তা।
সরকারের দেওয়া কারণ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং টেকসই সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে।
এতে পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা কেনার ক্ষেত্রে নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন বা রেটেড ক্রাইটেরিয়া চালুর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি সম্পদের সুষম বিস্তারের জন্য সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করা এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং নতুন ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।


























