পার্বত্য জেলা পরিষদের দুর্নীতি বিচার হবে: মীর হেলাল
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮৫৮ বার পড়া হয়েছে
পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
রোববার দুপুরে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রশিক্ষণের সনদ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী।
জেলা পরিষদের অনিয়ম তদন্ত হবে
পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা এর আগের সরকারের সময়ে গঠিত জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব সম্প্রদায়ের সমঅধিকারে গুরুত্ব
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে দেশের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। শিক্ষা, যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। এসব খাতে কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পার্বত্য এলাকার তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে পাহাড়ের তরুণরা দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়
এর আগে প্রতিমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বোর্ডের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরে তিনি রাঙামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ-টাওয়ার এবং জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার উদ্বোধন করেন। এসব অবকাঠামো চালুর ফলে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনোদন ও শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহাপুরম খালের ওপর নির্মিত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা, যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

























