রংপুরে পাঁচতারকা মানের হোটেলে দিনের আলোতেই অভিযানের নামে তাণ্ডব
- আপডেট সময় : ১১:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫৬১ বার পড়া হয়েছে
রংপুরে পাঁচতারকা মানের হোটেলে দিনের আলোতেই ‘অভিযানের’ নামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে হোটেলের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি, এমনকি মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে। এতে করে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায় রেস্টুরেন্ট! ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন অতিথিরা।
অন্যান্য দিনের মতো সোমবার স্বাভাবিক চলছিল রংপুর গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের কার্যক্রম। কিন্তু হঠাৎ করেই বেলা ১১:৩০ মিনিটে সেখানে প্রবেশ করে রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের একটি দল। নেতৃত্বে ছিলেন রাজস্ব কর্মকর্তা পল্লবী রানী দাস।
প্রথমে নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদের মতো শুরু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নেয় ভয়াবহ মোড়। রংপুর বিভাগের দায়িত্বরত কমিশনার স্বাক্ষরিত পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল যখন কথা বলছিল ঠিক তখনই যুগ্ম কমিশনার পায়েল পাশা অযাচিতভাবে দলবল নিয়ে ঢুকে পড়েন হোটেলে, আর শুরু হয় চাপ, হুমকি ও ভীতি ছড়ানোর ঘটনা।
এদিকে হোটেলের লবিতে অবস্থান নিয়ে পায়েল পাশা দামি মালামাল নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এমনকি নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোরও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ হোটেল কর্তৃপক্ষের।
এই তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের অতিথিদের মাঝে। প্রায় চার ঘণ্টা রেস্টুরেন্টে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়, স্থবির হয়ে পড়ে পুরো সেবা কার্যক্রম।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ আছে—হোটেলের কম্পিউটারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে উল্টো হোটেলের কর্মকর্তাদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়। এসময় পায়েল পাশের নির্দেশে অপর কর্মকর্তা নিজ হাতে একটি বিবৃতি লিখে জোরপূর্বক এজিএম-এর কাছে স্বাক্ষর নেয়। যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল।
শেষ পর্যন্ত লুটপাটে ব্যর্থ হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করে নিয়ে যায় ওই দল।
এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন যুগ্ম কমিশনার পায়েল পাশা। তার বক্তব্য চাইলে তিনি উল্টো নিজের মোবাইল দিয়েই প্রতিবেদকের ভিডিও ধারণ করে চোরের মতো দ্রুতগতিতে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হলেও এখনো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে মেলেনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা। অভিযোগ উঠেছে, জনগণের আমানত রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই কি এখন ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছেন? এই ঘটনায় তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা।
























