০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রায় বিলীন হয়ে গেছে

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • / ১৬২০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লায় ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। দেখে এখন আর বোঝার উপায় নেই এটি একজন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদের বাড়ি। সংস্কারের মাধ্যমে তার স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানিয়েছে কুমিল্লাবাসী। সিটি মেয়র জানান, বাড়িটি রক্ষায় বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন করা যায়নি।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি জানান। ওই অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, গণপরিষদের কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লেখা হয়। কিন্তু,পুরো পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তুলেন তিনি।

এর পর থেকেই পাক বাহিনীর নজরে ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ গভীর রাতে পাকবাহিনী কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পাড়ের এই বাড়ি থেকে তাকে ও তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে তুলে নিয়ে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে। ৮৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ ও তার ছেলেকে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর তাদের মরদেহও পাওয়া যায়নি।

বাড়িটিতে ধীরন্দ্রনাথ দত্তের কোন নাম ফলক নেই। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় টিনের চাল ও দেয়ালের ইট খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উঠে। তবু, ঐতিহাসিক বাড়িটি দেখতে এখনো দর্শনার্থীরা ভিড় করে। বাড়িটিতে একজন কেয়ারটেকার তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

বাড়িটি স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ, ভাষা জাদুঘর ও সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তার স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

বাড়িটি রক্ষায় বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে জানান, কুমিল্লা সিটি মেয়র।

আগামী প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দিতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণে পরিবারের সাথে সমন্বয় করে উদ্যোগ গ্রহনের আশা করে সবাই।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রায় বিলীন হয়ে গেছে

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কুমিল্লায় ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। দেখে এখন আর বোঝার উপায় নেই এটি একজন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদের বাড়ি। সংস্কারের মাধ্যমে তার স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানিয়েছে কুমিল্লাবাসী। সিটি মেয়র জানান, বাড়িটি রক্ষায় বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন করা যায়নি।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি জানান। ওই অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, গণপরিষদের কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লেখা হয়। কিন্তু,পুরো পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তুলেন তিনি।

এর পর থেকেই পাক বাহিনীর নজরে ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ গভীর রাতে পাকবাহিনী কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পাড়ের এই বাড়ি থেকে তাকে ও তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে তুলে নিয়ে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে। ৮৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ ও তার ছেলেকে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর তাদের মরদেহও পাওয়া যায়নি।

বাড়িটিতে ধীরন্দ্রনাথ দত্তের কোন নাম ফলক নেই। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় টিনের চাল ও দেয়ালের ইট খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উঠে। তবু, ঐতিহাসিক বাড়িটি দেখতে এখনো দর্শনার্থীরা ভিড় করে। বাড়িটিতে একজন কেয়ারটেকার তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

বাড়িটি স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ, ভাষা জাদুঘর ও সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তার স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

বাড়িটি রক্ষায় বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে জানান, কুমিল্লা সিটি মেয়র।

আগামী প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দিতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণে পরিবারের সাথে সমন্বয় করে উদ্যোগ গ্রহনের আশা করে সবাই।