৬ মাসের ব্যবধানে সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ মার্চ ২০২২
- / ১৭৯২ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম। ৬ মাসের ব্যবধানে লিটার প্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা। দেশে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে সরকারও।আমদানী শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প হিসেবে দেশে সরিষা, সূর্যমুখী, রাইস ব্রান অয়েল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মাত্র ২৫ বছর আগেও দেশের ভোজ্যতেলের বাজারের প্রায় পুরোটাই নির্ভরশীল ছিলো দেশী সরিষার উপর। নব্বুইয়ের দশক থেকে আমদানী সহজ করায় তিন দশকের মধ্যেই পাল্টে যায় দেশের ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি। সরিষার জাগায় স্থান করে নেয় সয়াবিন তেল। এখন বাজারের ৯০ ভাগই আমদানী-নির্ভর সয়াবিনের দখলে।
দেশে আধুনিক চালকলের বিকাশে নতুন করে এসেছে রাইস ব্রান অয়েল। বেড়েছে সূয্যমুখীর চাষও। কিন্তু দেশের কৃষকদের কথা চিন্তা না করে সরকার ধাপে ধাপে আমদানী শুল্ক ও ভ্যাট কমালে ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে নেয় গুটিকয়েক আমদানীকারক। এরা সুকৌশলে সরিষাসহ দেশীয় তেলের বাজার নি:শ্বেষ করে দেয়।
দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২০ থেকে ২২ লাখ টন। এর বিপরীতে দেশী ভোজ্যতেল মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ টন। আমদানিতে ব্যয় হয় ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। অথচ সরকারী নীতি-সহায়তা ও প্রণোদনা পেলে চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন সম্ভব।
সরিষা ছাড়াও শুধু রাইস ব্রানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে ভোজ্যতেলের চাহিদার অন্তত ৫০ ভাগ দেশীয় উৎস থেকে পূরণ করা সম্ভব। এতে বেঁচে যাবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা-এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
দেশে সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ অন্তত ৩ গুণ বাড়ানো সম্ভব। এজন্য কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্যমূল্য দিতে হবে।
ভোজ্যতেলের বাজারকে আমদানী সিণ্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করতে না পারলে শুধু ট্যাক্স-ভ্যাট কমিয়ে দেশে কখনোই তেলের বাজারকে স্থিতিশীল করা কিংবা কৃষক ও ক্রেতাস্বার্থ রক্ষা করাও সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশিষ্টরা।










