নারায়ণগঞ্জে কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসএ পরিবহনের গ্রাহকদের পার্সেল লুটের অভিযোগ

- আপডেট সময় : ১২:২৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫২৫ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসএ পরিবহনের গ্রাহকদের পার্সেল লুট করার অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতায় জোরপূর্বক বেশ কয়েকজন গ্রাহকের পার্সেল ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ সময় এসএ পরিবহনের বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিএম আসাদুজ্জামানকে লাঞ্ছিত করা হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২৬ আগষ্ট সন্ধ্যার পর সাদা পোশাকে একদল লোক নিজেদের কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ অফিসে লুটতরাজ চালায়। রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল আলম ও ওসি শাহিনূর আলম মিলে বৈধপণ্যকে অবৈধ সাজিয়ে চাঁদাবাজির উদ্দেশে গ্রাহকের পার্সেল জোরপূর্বক নিয়ে যায়। কোন ধরনের জব্দ তালিকা না দিয়ে পার্সেল নিয়ে যাওয়া এক ধরনের ডাকাতি। প্রতিবাদ করায় এসএ পরিবহনের কর্মকর্তাদের নির্যাতনও হয়রানি করা হয়।
দেশের শীর্ষ স্থানীয় কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এসএ পরিবহনের শানারপাড়স্থ চিটাগাং রোড শাখার চিত্র এটি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ডাক, ডকুমেন্ট, প্যাকেট, পার্শ্বেল বুঝে নিচ্ছেন গ্রাহকরা। পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন গন্তব্যেও। একদল প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মী দিনরাত উদয়াস্ত পরিশ্রম করছেন সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে।
গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যার কিছু সময় আগে, সাদাপোশাকের একদল লোক নিজেদের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল আলমের নেতৃত্বে ঢুকে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির গুদামে। সেখানে রক্ষিত গ্রাহকের আমানত কেটে ছিড়ে তছনছ করে তারা। এসময় বগুড়া থেকে বুকিং হয়ে আসা গ্রাহকের ৫টি পার্শ্বেল কোন রকমের সিজারলিস্ট ছাড়া নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এমন অপেশাদার আচরণের প্রতিবাদ করলে ভ্যাট কর্মকর্তারা চড়াও হন এসএ পরিবহনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ওপর।
খবর পেয়ে ঢাকা থেকে এসএ পরিবহনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছুটে যান সানারপাড়ে। এরইমধ্যে স্থানীয়রাও জড়ো হন ঘটনাস্থলে। এসময় ঢাকা থেকে বিপুল পরিমান কাস্টমস কর্মকর্তাদের ডেকে আনেন সেখানে। একপর্যায়ে ভ্যাট কর্মকর্তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সহযোগী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর আলমসহ একদল অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যও আসেন সেখানে। এসেই মারমুখি হয়ে ওঠে তারা। এমনকি এসএ পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার বয়জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে লাঞ্ছিত করে গাড়িতে তুলে আটকে রাখে। একইসাথে গ্রাহকের বিপুল পরিমান পার্শ্বেলও অস্ত্রের মুখে জোরপুর্বক কোন রকমের সিজারলিস্ট না দিয়েই গাড়িতে তুলে নেয় তারা।
পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের এমন আচরণে বিষ্মিত হন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধ্যানে নামে এসএটিভি। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে ভ্যাট কর্মকর্তারাও স্বীকার করতে বাধ্য হন এসএ পরিবহনের কর্মীরা ছিলেন নির্দোষ।
তাহলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে কেন এমন অরাজকতা চালানো হলো তার সঠিক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি পুলিশ ও রাজস্ব কর্মকর্তারাও।
স্থানীয় ভুক্তোভোগীরা জানান, শুধু এসএ পরিবহনই নয় নারায়ণগঞ্জের ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। কেউ তাদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। সাম্প্রতি এসএ পরিবহনের কাছেও এমন অনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল আলম। কিন্তু স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় এসএ পরিবহনের সিদ্ধিরগঞ্জ শাখায় অভিযানের নামে মব সৃষ্টি করা হয়।