জীবনের দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেক কিছুর সাক্ষী ১২২ বছর বয়সী রবিদাস
- আপডেট সময় : ০৪:১৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২
- / ১৬০৯ বার পড়া হয়েছে
জীবনের দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেক কিছুর সাক্ষী তিনি। চোখের সামনে হারিয়েছেন মা-বাবা, ভাই, স্ত্রীসহ কতশত প্রিয়জনকে। তারপরও ১২২ বছর বয়সী রাম পিরিত রবিদাস এখনও চলেন কারো সাহায্য ছাড়াই। এত বয়সেও রবিদাসকে পাশে পেয়ে ভাগ্যবান পরিবারের সদস্যরা।
১২২ বছর বয়সী রাম পিরিত রবিদাস। বয়সের ভারে কিছুটা নতজানু। কিন্তু মনের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস কমেনি এতটুকুও।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকযদু গ্রামের বাসিন্দা রবিদাস। বাবা মৃত গোধন রবিদাসের বড় ছেলে তিনি। ১৮৬৮ সালের দিকে ভারতের বিহার রাজ্যের ছাপড়া জেলার সনপুর গ্রাম থেকে সম্পত্তি বিক্রি করে বাংলাদেশে অভিবাসী হন তার পূর্বপুরুষ। এরপর থেকে চকযদু গ্রামেই বসবাস।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১৮৯৯ সালের ১১ মে লাল- সবুজের এ দেশেই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিশুকাল থেকে যাদের দেখে বড় হয়েছেন কিম্বা যাদের আদর ভালোবাসায় নিজেকে সিক্ত করেছেন প্রতিনিয়তই পৃথিবী ছাড়ছেন তাদের কেউ না কেউ। এত বয়সেও প্রিয় মানুষটিকে পাশে পেয়ে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন পরিবারের সদস্যরা। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক রবিদাস। সন্তানদের বিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে তাদেরও পরিবার হয়েছে। সব মিলে চার প্রজন্মকে দেখছেন রবিদাস। পরিবারের লোকজন।
ব্রিটিশ শাসনামল, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বহু ঘটনার সাক্ষী তিনি। ভারতের সবেপুর বিদ্যাপীঠ থেকে এসএসসি পাস করেছিলেন রবিদাস। সজনদের নিয়ে ভালো থাকলেও মনের গহীনে ফেলে আসা শৈশব, কৈশোর আর যৌবনের স্মৃতিমাখা রঙ্গিন দিনগুলো নাড়া দেয় তাকে।
কিন্তু রবিদাসের কাছে বয়স কেবল মাত্র একটি সংখ্যা। সকাল হলেই ঘুরে বেড়ান প্রাকৃতিক নির্যাসে। গোসল, খাবার থেকে শুরু করে নিজের সব কাজ নিজেই করেন এখনও। বেঁচে আছেন জীবনের পড়ন্ত বেলায় ক্লান্ত দেহটি নিয়ে।
এখনও রবিদাসের কথা বেশ স্পষ্ট। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, তার সময়ের সবাই মারা গেছেন। শুধু তিনিই বেঁচে আছেন।










