১৯ বছরে দুই লাখ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের মামলা দুই লাখ
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০২২
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে
ব্যাংক থেকে যে হারে ঋণ যাচ্ছে, সে হারে আসছে না ফেরত। টাকা আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। গত ১৯ বছরে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা ফেরত পেতে মামলা হয়েছে দুই লাখের বেশি। অথচ এ সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ১৯ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ খাতের অসৎ কর্মকর্তাদের দাপটে গড়ে ওঠা জালিয়াতচক্র বিভিন্ন সময় টাকা আত্মসাৎ করে আসছে।
গেল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে ব্যাংকিং খাতে। অব্যবস্থাপনা ও আইনি জটিলতায় প্রতিবছর এ খাত থেকে ঋণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে।সিপিডির তথ্য মতে, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বড় ধরণের ১০ টি ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে অর্থঋণ আদালতে মামলার সংখ্যা ২ লাখ ১ হাজার ৫৮৬টি। এর বিপরীতে দাবির পরিমাণ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। তবে গত বছর পর্যন্ত নিষ্পত্তি করা মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৯টি। এর বিপরীতে প্রকৃত আদায় ১৯ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে বর্তমানে অর্থঋণ আদালতে আটকে আছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ।
খেলাপীর পেছনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীগুলোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর দুর্বলতাকেও দায়ী করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ বিতরণের মধ্যে স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে ঋণ খেলাপী। খেলাপীর এই ধারা দেশের অর্থনীতিতে দুষ্ট ক্ষতের মত কাজ করছে বলেও মনে করেন তারা।
ঋণ খেলাপির জন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত; এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর গাফলতিকে দায়ী করছেন দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপীর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ঋণের দ্বিগুণ অর্থ আটকে থাকে, অন্যদিকে জালিয়াতির মামলা পরিচালনা ও জামানত রক্ষণাবেক্ষণে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।










