লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল ও অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, আহত হয়েছেন ১৪৯ জনেরও বেশি। হতাহতের সংখ্যায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য করা হয়নি।
হামলা শুরু হয় সোমবার ভোররাতে, যখন হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধে উত্তর ইসরায়েলের হাইফার কাছে মিসাইল প্রতিরক্ষা স্থাপনা “মিশমার হাকারমেল” লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, এটি লেবানন ও তার জনগণের প্রতিরক্ষা এবং খামেনির শাহাদাতের জবাব।
আপসঃ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর প্রজেক্টাইল আটকে দিয়েছে এবং কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জবাবে তারা লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে “জোরালো আক্রমণ” শুরু করেছে। বৈরুতে প্রায় এক ডজনেরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা বৈরুতের কাছে সিনিয়র হিজবুল্লাহ কমান্ডারদেরও হত্যা করেছে।
আসন্ন হামলার সতর্কবার্তা জানিয়ে লেবাননের ৫০টিরও বেশি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। চিহ্নিত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা স্থানে চলে যান। ‘কেউ যদি হেজবুল্লাহর সদস্যদের কাছাকাছি বা তাদের স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করেন, তাহলে তারা নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।’
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুদ্ধ অভিযান পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের সকল লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে এবং সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা সন্ত্রাসীদের ওপর সবচেয়ে শাস্তিমূলক আঘাত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আবারও রেভু-লেউশ-নারি গার্ডস, ইরানি মিলিটারি পুলিশকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি পাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নতুবা নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে।
পে অফ বৈরুত-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহ থেকে শুরু করে দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকা—সবখানেই বিস্ফোরণের শব্দ যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একদিকে হিজবুল্লাহ-এর প্রতিশোধের ঘোষণা, অন্যদিকে ইসরায়েলের -এর জোরালো পাল্টা হামলা—দুই পক্ষের এই সংঘাত কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো অঞ্চলকে ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তার গভীর খাদে।

















