মার্কিন-ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব ইরানের
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও তাদের বিমানবাহিনী সদর দফতর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান । এই আকস্মিক হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দেশটির বিমানবাহিনী প্রধানের সদর দফতর। এদিকে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ড্রোন হামলার পর রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান যে প্রত্যাঘাত শুরু করেছে, এটি তার তৃতীয় দিন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রবিবার ভোরে খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে, হামলার পর ইরানি নেতার মৃতদেহ পাওয়া গেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার একদিন পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে যা জাহাজ চলাচল থেকে শুরু করে বিমান ভ্রমণ এবং তেল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধাক্কা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন যে এটি বহু দিনের অভিযানের আশা করছে। রয়টার্স জানিয়েছে যে একটি টেকসই অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে যা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
আপসঃ গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছেন। মূলত একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান তিনি। ট্রাম্প জানান, ‘এক ধাক্কায় ৪৮ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। ইরানে সামরিক অভিযান দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে।’
মার্কিন নেতা আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান খুব ভালো ভাবে এগোচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচির আগেই সব লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে। আমরা শুধু আমাদের নিজেদের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের পক্ষে দায়িত্ব পালন করছি’।
আপসঃ অন্যদিকে, রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করবে। তেল আবিবে ইসরায়েলের সামরিক সদর দপ্তরের ছাদ থেকে বক্তব্য রেখে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইতিমধ্যেই “তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে ক্রমবর্ধমান তীব্রতার সাথে” হামলা চালাচ্ছে এবং অভিযান আরও প্রসারিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন শুধু ধোঁয়া আর বিস্ফোরণের শব্দ নয়—ভাসছে অনিশ্চয়তা, প্রতিশোধ আর শক্তির নগ্ন প্রদর্শনের এক ভয়াবহ বার্তা। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুর ঘোষণার পর যে ঝড় উঠেছে, তা কেবল একটি দেশের নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়; এটি গোটা অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে রক্তাক্ত সমীকরণে দাঁড় করিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দৃঢ় অবস্থান ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর যুদ্ধঘোষণামুখর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এ সংঘাত থামার নয়, বরং আরও বিস্তৃত হওয়ার পথে।

















