চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুর এখন সন্ত্রাসীদের আস্তানা
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৬০৫ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুর। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। আর এই বসতি বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি এখন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। বাসিন্দা ছাড়া বাইরের কেউ এলাকায় ঢুকতে পারেন না। এমনকি পুলিশ, জেলা প্রশাসনের লোকজনও এলাকাটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকবার হামলার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার এলাকাটিতে অভিযানে গিয়ে নিহত হন একজন রেব কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজীদ লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। নব্বই দশকে সন্ত্রাসী আলী আক্কাস জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে বসতি শুরু করেন। দখল ধরে রাখতে গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ে হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে যেতে পারতেন না।
প্লট বিক্রির টাকা ও পাহাড় দখল নিয়ে এক সময় নিজেদের দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু হয় আক্কাসের।এর কিছুদিন পর আক্কাসের সহযোগী কাজী মশিউর রহমান, ইয়াসিন মিয়া, গফুর মেম্বার ও গাজী সাদেক আলাদা আলাদা দল তৈরি করেন। বর্তমানে এরাই আলাদা বলয় তৈরি করে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে। এই এলাকায় প্রায় ঘটে খুনের ঘটনা।কিন্তু এসব ঘটনার কোন কুল কিনারা করা সম্ভব হয়না প্রশাসনের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ঢুকলেই প্রবেশমুখে পাহারায় থাকা দখলদার এবং সন্ত্রাসীরা দ্রুত খবর পেয়ে যান। সর্বশেষ গত সোমবার রেব অভিযান পরিচালনাকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা করলে মৃত্যু হয় একজন রেব কর্মকর্তার।
বেশ কয়েক বছর আগে জঙ্গল সলিমপুরের খাস জমি দখলমুক্ত করে বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনা নেয়া হলেও উচ্ছেদ অভিযানে বারেবারে বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমির মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে। এসব সরকারি সম্পদ পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের থেকে দখলমুক্ত করে দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।


















