ইরানে হামলায় অচল হরমুজ প্রণালী, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা
- আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে থাকা বারুদের মেঘ এখন আর শুধু সীমান্তঘেঁষা উত্তেজনার গল্প নয়, তা রূপ নিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক গভীর অনিশ্চয়তায়। ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে পরিণত হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর-হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল। সংকট আরও ঘনীভূত করেছে সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা এবং উপসাগরীয় নৌপথে তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর। ফলে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে প্রতিবেশী যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। তেহরানের এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে জ্বালানি স্থাপনাও। সোমবার এ ধরনের কয়েকটি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গ্যাস ও তেল শোধনাগার বন্ধ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলের মতো উন্নত না হওয়ায় ইরান তাদের সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উস্কে দেবে। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার ছায়া পড়েছে শেয়ারবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের শেয়ার সূচকে পতনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
সোমবার একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে। সৌদি আরামকোর রাস তানুরা রিফাইনারি নামের ওই শোধনা গারের উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল। ইরানের ছোড়া দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর কাতারও গতকাল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করেছে। বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পার হয় পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকে সেখানে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দুবাই, দোহা, আবুধাবি ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপণ্য সরবরাহে টান পড়বে।
দফায় দফায় বিমান হামলার জবাবে আবারও ইসরাইল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। মঙ্গলবার তেহরান থেকে তেল আবিবের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আকাশজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি এবং সাইরেনের শব্দে পুরো ইসরায়েল জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি যেন এখন এক অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছে—তেলের দাম একশ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা আর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ে যাচ্ছে উন্নত দেশ থেকে শুরু করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোও। শেয়ারবাজারের পতন, খাদ্য সংকটের ভয়, এবং সামরিক উত্তেজনা—সব কিছু একত্রে একটি ঘূর্ণিঝড়ের মতো পৃথিবীকে গ্রাস করতে চলেছে।





















