২৮টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্ড কাস্টমস কমিশনারেট

0

বন্ডের সুবিধা নিয়ে শুল্কোমুক্ত পণ্য আমদানী করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্ড কাস্টমস কমিশনারেট। নজরদারীতে রাখা হয়েছে আরো অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানকে। অধিকতর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল করাসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জনান কাস্টমস কমিশনার। আর বিজিএমইএ বলছে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরো যাচায় বাছায়করাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত ছিলো কাস্টমস কমিশনারেটের।

নিয়মানুযায়ী কাস্টমসের বন্ড সুবিধা ভোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানীযোগ্য পণ্যের কাঁচামাল শুল্কায়ন ছাড়াই কাস্টমস থেকে ছাড় করাতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে শতভাগ রপ্তানি করতে হবে ফিনিস গুডস। কিন্তু কাপড়সহ বন্ড সুবিধায় আনা বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি এমন অন্তত ৪০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে কাস্টমস। এরমধ্যে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে একশো কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার প্রমাণ মিলেছে।

বন্ড লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি-রপ্তানির হিসাব, উৎপাদন ও গুদামের তথ্য সংক্রান্ত অডিট রিপোর্ট প্রতিবছর বন্ড কাস্টমস কমিশনারের অফিসে জমা দেয়ার কথা থাকলেও অন্তত একশোটি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর এ নিয়ম মানেনি। আবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও নেই। মুলত এ ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোই বন্ডের অপব্যবহার করছে।

আর তৈরী পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, বন্ড সুবিধা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় তৈরী পোশাক শিল্পে। এই সুবিধার অপব্যবহার রোধ করা তাদেরও দাবি। কাস্টমস বলছে, স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যপারে অধিকতর তদন্ত চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলো মালিকদের বক্তব্যও গ্রহণ করবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এতে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বন্ডের লাইসেন্স। এছাড়া তদন্ত চলাকালিন বিনাশুল্কে কোন চালান ছাড় করাতে পারবে না অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন