২০১৭ সালটি ব্যাংক খাতের জন্য দু:সময়

0

২০১৭ সালটি ব্যাংক খাতের জন্য দু:সময়। সরকারী ব্যাংকের নানা অনিয়ম ছড়িয়ে পড়ে সেবরকারী ব্যাংকেগুলোতেও। তবে তা হঠাৎ করেই হয়নি বরং কয়েক বছর ধরেই চলে আসা নানা অনিয়মের প্রতিফলন ঘটে চলতি বছর। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে আনা হয় দবদল। সাবেক ও বর্তমান ব্যাংকাররা মনে করেন, খেলাপী ঋণ বন্ধ করে ব্যাংকের অন্যায়-অনিয়ম বন্ধ করতে দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে ফামার্স ব্যাংক। সাইন বোর্ডসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান, ঋণের তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন গুরুতর জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঋণে ব্যাপক অনিয়মের কারণে বড় ধরনের তারল্য সংকটেও পড়ে ব্যাংকটি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে গত ২৭ নভেম্বর পদত্যাগে বাধ্য হন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। বর্তমানে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংকটি।

এদিকে, বছরের শুরুতেই ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়।৫ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে পরিচালনা পর্যদের সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আরাস্ত্ত খান। পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ব্যাংকটির সে সময়ের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এরপর ধাপে ধাপে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় আরও পরিবর্তন আসে।

ইসলামী ব্যাংকের মতো সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হয়। ৩০ অক্টোবর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হঠাৎ করে পদত্যাগে বাধ্য হন। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফকে।

অন্যদিকে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেও ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ বিতরণ ও মূলধন সংগ্রহে অনিয়ম খুঁজে পায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১০ ডিসেম্বর পরিবর্তন আসে ব্যাংকটির পরিচালনায়। পরিবর্তণ আনা হয় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যানকে পদে। এদিকে, গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে বার্ষিক সাধারণ সভায় এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্যদেও পরিবর্তন আনা হয়।

ব্যাংক খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বীকৃতি দেয়া হলেও তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।
সিংক: জাহিদ হোসেন, প্রধান অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়
সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংকের এসব সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর।সিংক: ইব্রাহিম খালেদ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
অপকর্মকারীরা চিহ্নিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন