১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের খুনীদের অনেকেই রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে

0

১৫ আগস্টের নৃশংশ হত্যাকান্ডের বিচার হলেও খুনীদের অনেকেই রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাদের সাজা ঘোষণা হলেও বিভিন্ন দেশের নিজস্ব আইনের মারপ্যাচে পড়ে সে শাস্তি কর্যকর করা যাচ্ছে না এমন মত কুটনীতিকদের। অন্যদিকে এসএটিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে আইনমন্ত্রী জানালেন, আইনের বাধা আছে -তা বিবেচনায় নিয়েই এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর কিছু পথভ্রষ্ট সদস্যের হাতে নিহত হন সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে নভেম্বরে খুনীদের দেশ থেকে থাইল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্লেনে করে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু করে। আইনি-প্রক্রিয়া শেষে, ২০১০ সালে ১২ খুনির মধ্যে পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।তারা হলো, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্ণেল সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ, মেজর এ কে বজলুল হুদা এবং মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন।

বাকি সাতজনের মধ্যে আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে। আর অন্য ছ’জন এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। যাদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী জেদ্দায় কূটনীতিক পদে যোগদান করলেও ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। একই বছর নূর চৌধুরী ব্রাসিলিয়ায় কূটনীতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে কানাডায় পালিয়ে যান। আরেক খুনী শরীফুল হক ডালিম কূটনীতিক হিসেবে বেইজিংয়ে চাকুরী করলেও পরে পাকিস্তানে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। সেখানে আরো আছেন খন্দকার আবদুর রশিদ। রিসালদার মোসলেহউদ্দিন আছেন জার্মানিতে। আরেক আসামী আব্দুল মাজেদের অবস্থান জানা যায়নি।

সাবেক এই কুটনীতিকরা কিভাবে এই পদ পেলো এমন প্রশ্ন বিসের চেয়ারম্যান ও কুটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহেমেদ বলেন, আইন ই এখন প্রধান বাধা তাদের ফেরাতে।

তবে এস এ টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইনের বাধা থাকলেও কানাডার আদালত নুর চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় এখনো না দেয়ায়, আশার কথা শোনালেন আইনমন্ত্রী।

অনেকেই মনে করেন আর হয়তো তাদের ফেরানো যাবে না -এমন দাবি মানতে নারাজ মন্ত্রী।

দোষীদের বিচার নিশ্চিত হলে জাতি হবে দায়মুক্ত আর মুছবে কুটনীতিকদের কলঙ্কের তিলক-এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন