স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে জুমচাষের ধান কেটে দিলেন একদল শিক্ষার্থী

0

স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে জুমচাষের কষ্টের ফসল ধান কেটে দিলেন শহরের হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করা একদল শিক্ষার্থী। বান্দরবানে চিম্বুক পাহাড়ে এক চাষীর ফলানো ধান স্বেচ্ছাশ্রমে কেটে দিয়েছেন তারা। স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই শিক্ষার্থীদের জুমক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। যাতে জুম চাষীর বাবা-মার কষ্ট শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে। উদ্যোক্তাদের মতে, জুমের সাথে ঘনিষ্ঠ জীবন আদিবাসীদের। শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হলে নিজের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন না হতে এমন আয়োজন তাদের।

জুমক্ষেতে এই শিক্ষার্থীরা কেউ-ই জুমচাষী নয়। কিন্তু প্রকৃত জুমচাষীর সন্তান ওরা। বান্দরবান শহরের একটি হোস্টেলে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুলে পড়েন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি থানিচর দুর্গম এলাকার। একসময় বাবা-মাকে দেখেছেন সারাদিন জুমক্ষেতে কাজ করতে। বন-বাদাড়ে দারিদ্র, অশিক্ষা, অন্ধকার এবং জীবনের ন্যুনতম সুবিধা পায়নি এমন বঞ্চনাকে সঙ্গী করে বেড়ে উঠেছেন একেকজন।

এখন সবাই শহরে থেকে পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক। তবে, মা-বাবার কষ্টের কথা মনে করে প্রতিবছর কোন এক জুমচাষীর ফসল স্বেচ্ছাশ্রমে কেটে দেন তারা।

চাষিরা জানান, গেল বারের চাইতে এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছে। এপ্রিলে লাগানো ধান মূলত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে পাকে।
ভক্সপপ-৫(ম্রো ভাষা)। বাংলা অনুবাদ: এ বছর ২০ কেজি ধান লাগানো হয়েছে। নিজেরা কাটলে ৩-৪দিন সময় লাগত। শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে দেওয়ায় তা একদিনেই শেষ হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে জুমধান কেটে দেওয়ার জন্য পরিবারে কম সদস্য রয়েছে এমন একটি জুম চাষীর ক্ষেত বেছে নেওয়া হয় বলে জানান আয়োজক সংস্থার এই কর্মকর্তা।

প্রতিষ্ঠিত হয়ে কেউ কেউ ভুলে যায় নিজের শেকড়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সমাজ থেকে। কিন্তু এই শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের জুমচাষী মা-বাবার কষ্টের কথা ভুলে না যায় এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন