সামগ্রিকভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকরা এখনো নানা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে

0

রানা প্লাজা দূর্ঘটনার পর কারখানার পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও সামগ্রিকভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকরা এখনো নানা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। মজুরি বাড়ানো হলেও, ২০১৩ থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী বেতন না বাড়ানোয় তারা বর্তমানে ২৬ থেকে ৩০ শতাংশ কম বেতন পাচ্ছে। এছাড়া, রানা প্লাজার ৫১ শতাংশ পোশাক শ্রমিক এখনো বেকার। এসব চিত্র উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল- টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে। তাদের দাবি, পোশাক মালিকরা অধিকাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কথা বললেও বাস্তবে মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় রয়েছে।

রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর তৈরি পোশাক ক্রেতাদের সংগঠন- অ্যাকর্ড অ্যান্ড অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে দেশের পোশাক কারখানাগুলোর ব্যাপক সংস্কার করা হয়। অধিকাংশ কারখানার নিশ্চিত হয়েছে উন্নত পরিবেশ। কিন্তু যাদের হাত ধরে পোশাক খাতে জিডিপি’তে প্রায় ১২ শতাংশ অবদান, তারা এখনো নানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত কর্মঘন্টা এবং কাজের চাপে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে স্বাস্থ ঝুঁকিতে। টিআইবি’র পরিসংখ্যান বলছে, এ খাতে ২০১৩ থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত ২০ শতাংশ নারী শ্রমিক কমেছে।

টিআইবি’র প্রধান নির্বাহী জানান, আইনে মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হলেও ক্ষুন্ন হয়েছে শ্রমিকদের স্বার্থ । এ কারণে অনেক শ্রমিক চাকরিচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি মামলার হয়রানির শিকার হচ্ছে। প্রতিবেদনে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে উল্লেখ করে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কারাখানাগুলো সবচে বেশি অনিয়ম করছে। তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য একক কতৃপক্ষ গঠন, শ্রম আইন ও ইপিজেড শ্রম অধ্যাদেশ সংশোধনসহ শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশকিছু সুপারিশ করেছে টিআইবি।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন