সাগরে মাছ ধরার টানা নিষেধাজ্ঞায় হাজারো জেলে পরিবারে দুর্দিন

0

চট্টগ্রামের উপকুলীয় এলাকায় বাস করা জেলেদের চারভাগের এক ভাগও ঠাঁই পায়নি মৎস্য অধিদফতরের তালিকায়। তাই টানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারের দেয়া সামান্য ত্রাণ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র মৎস্যজীবীরা। আর যারা পাচ্ছে তারা বলছে, এ ত্রাণের চাল খাওয়ার উপযোগী নয়। সব মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ শিকারের ভরা মৌসুমেও মানবেতর দিন কাটাচ্ছে হাজারো জেলে পরিবার। এদিকে, মৎস্য অফিস বলছে, আপাতত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চিন্তা নেই।

মহাজনদের কাছ থেকে দাদনে টাকা নিয়ে জীবন চালানোর খরচ মেটায় জেলেরা। মৌসুমে মাছ ধরে সেই টাকা শোধ করতেই হিমসিম খেতে হয়। তাই মৌসুম শেষে আবারো হাত পাততে হয় মহাজনদের কাছে। কিন্তু চিরায়ত এই রীতিতে ছেদ পড়েছে এবার। কারণ মৌসুমের শুরুতে সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট জেলে পল্লীর বাসিন্দা ভাগ্য রানী জলদাসী। স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। দুই সন্তান অন্যের নৌকায় মাছ ধরে যা রোজগার করে তাই দিয়েই চলে ৭ জনের সংসার। এখন কাজ না থাকায় পাচ্ছে ত্রাণের চাল। তবে তা খাওয়ার উপযোগী নয়।

এদিকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেয়া এমনকি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক কয়েক দফায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে জেলেরা। দিয়েছে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারিও তাদের।

আর জেলা মৎস্য অফিস বলছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে জেলেদের অনুদান আরো বাড়ানোর ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা চলছে।

জেলেদের বিভিন্ন সংগঠনের হিসেবে, জেলেদের সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। কিন্তু মৎস্য অধিদফতরের হালনাগাদ তালিকায় মহানগরীতে দুই হাজার আর জেলায় ২৫ হাজার জেলের নাম ঠাই পেয়েছে।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন