সংকট দৃশ্যমানের পরও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কাজ বন্ধ

0

সংকট দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্যাসের অনুসন্ধান বন্ধ থাকায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা যায়নি। ফলে সরকারকে এখন উচ্চমূল্যে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না করায় প্রায় প্রতিবছর প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। যা আমদানি করা গ্যাসের ৩ গুণ বলে জানিয়েছেন, জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে যার বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

গেলো বছরের মাঝামাঝি সময়ে কাতার থেকে প্রথমবারের মতো আমদানি করা হয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি। এই তরল জ্বালানিকে গ্যাসে রূপান্তরিত করে পাইপ লাইন দিয়ে পর্যায়ক্রমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে।

জ্বালানির জন্য গ্যাসের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে চাহিদার একটি বড় অংশেরই ঘাটতি রয়েছে। গ্যাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প কলকারখানার উৎপাদন। ফলে চাহিদা পূরণে সরকারকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানির পথে পা বাড়াতে হয়। এতে বাড়াতে হচ্ছে গ্যাসের দামও।

বুয়েটের এই জ্বালানী বিশেষজ্ঞের মতে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় অপচয় এবং চুরি রোধ করা যায়নি। অথচ এটি নিশ্চিত করা গেলে এতো দ্রুত সংকট তৈরি হতো না। ফলে চড়াদামে এলএনজি আমদানি এবং অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধিরও প্রয়োজন হতো না।

কেবল এলএনজি’র ওপর নির্ভরশীল না হয়ে গ্যাস সংকট মোকাবেলায় বঙ্গোপসাগরসহ দেশের সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন তিনি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস নির্ভরতা থেকে সরে আসার পক্ষেও মত দেন তিনি।

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বাড়বে শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয়। এছাড়া, বাসাবাড়ির গ্যাস, সিএনজি’র দাম বাড়ানোর ফলে যানবাহনের ভাড়া, বিদ্যুৎ এবং পণ্য পরিবহনেও বাড়বে খরচ। এতে নিম্ন আয়ের মানুষকে পড়তে হবে বিপাকে। ফলে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টিও আসছে আলোচনায়।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের। এমন বাস্তবতায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এ খাতে ভর্তূকি দেয়ার পরামর্শ তাদের।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন