রাতারাতি অবৈধ হয়ে গেছেন ১৯ লাখ অধিবাসী

0

ভারতের আসাম রাজ্য সরকার ৩১ আগস্ট এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর, রাতারাতি অবৈধ হয়ে গেছেন ১৯ লাখ অধিবাসী। ভারতের সংবাদ মাধ্যম বলছে, বাদ পড়াদের জন্য তৈরি হচ্ছে দেশটির ‘সবচেয়ে বড় বন্দিশালা’। নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হলে, তাদের ঠাঁই মিলবে সেখানেই। যদিও দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে, অবৈধদের ঠাঁই হবে না ভারতে।

আসামে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের সামনে এখন একটাই পথ খোলা- যেভাবেই হোক প্রমাণ করা যে, তারা বাংলাদেশি নয়! সেটি প্রমাণে ব্যর্থ হলে, কি হবে তা অবশ্য ভারতের কেন্দ্রীয় কিংবা আসাম রাজ্য সরকার স্পষ্ট করছে না।

চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের ‘ভারতীয় পরিচয়’ প্রমাণের জন্য আইনের দীর্ঘ পথ খুলে দিয়েছে মোদি সরকার। এক রাতের মধ্যে বিদেশি বনে যাওয়া এসব মানুষ আগামী ৪ মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। তাতেও ভারতীয় প্রমাণে ব্যর্থ হলে, দ্বারস্থ হতে পারবেন হাইকোর্ট এমনকি সুপ্রিম কোর্টের।

এরপর তাদের ঠাঁই হবে কোথায়? তারও পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনের আগেই আসামের অবৈধদের ‘উইপোকা’ আখ্যা দিয়ে নিধনের কথা জানিয়েছিলেন। জুনে পার্লামেন্টে জানান, রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ১০টি বিদেশি বন্দিশালা। নির্বাচনের পর সেগুলোর কাজ দ্রুত শুরু হয়।

নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে নির্বাচনী প্রচারে আসামে সব বন্দিশালা গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন।কিন্তু নাটকীয়ভাবেই তিনি ভোটের পর গোয়ালপাড়ায় ৩ হাজার জনকে রাখার মতো বিদেশি বন্দিশালা তৈরিতে ৪৬ কোটি টাকা মঞ্জুর করেন। আসামে আগের ছয়টি ফরেনার্স ডিটেনশন ক্যাম্পের সঙ্গে যোগ হচ্ছে সেগুলোও। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের প্রস্তাবে আরও ১০টি বন্দিশালা নির্মাণে সম্মতি মিলেছে কেন্দ্রের।

বন্দিশালার সঙ্গে চলছে বিদেশি ট্রাইব্যুনাল গঠনের মহাযজ্ঞ। বিদ্যমান ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইবুনালের সঙ্গে যোগ হচ্ছে এক হাজার নতুন ট্রাইবুনাল।

আসাম মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বারবার বলছেন, বৈধ ভারতীয়দের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দুশ্চিন্তার মেঘ এখন এনআরসি ভুক্তদের মধ্যেও প্রকট আকার ধারণ করছে। কেননা, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেলেও সেটি আবারও খতিয়ে দেখার কথা বলছে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন