রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টার কারণেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উগ্র মতাদর্শের চর্চা

0

বিভাজনের রাজনীতি উস্কে, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টার কারণেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উগ্র মতাদর্শের চর্চা। আর নিউজল্যাণ্ডের মসজিদের গণহত্যা সেই অপরাজনীতির ফসল। এমনটাই মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ন কবির। এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনের মতে, ক্রাইস্টচার্চে মুসল্লিদের ওপর হামলা সভ্যতা ও বিশ্ব নেতাদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা। তারা বলেন, অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গঠনের পাশাপাশি তরুণ শিক্ষার্থীদের মন ও মগজে উগ্র মতাদর্শ প্রচারের কাজ নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে সমাধান।

গেল শুক্রবার নিউজল্যাণ্ডের আল নুর মসজিদে নৃশংসভাবে একের পর এক মুসল্লি হত্যা করে ইতিহাসের মহাখলনায়কদের পাতায় নাম লেখান অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। যিনি উগ্র শেতাঙ্গদের নাৎসীবাদী সংগঠন ব্লাক সানের সদস্য।

ব্লাক সানের মতো আরেকটি উগ্র শেতাঙ্গদের সংগঠন নাম যার এভরোপা। প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৬-র মার্চে। সড়কে বিদ্যুতের পিলার কিংবা স্কুলে টেবিল, সবখানে চলেই নাৎসীবাদী শ্রেষ্ঠত্বের প্রচারণা। তেমনি আরেকটি সংগঠনের নাম প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট। প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের আগস্টে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অ্যান্টি ডিফেমেশন লিগ এডিএল এর গবেষণা থেকে জানা যায়, গেল বছর উগ্র জাতীয়বাদী প্রচারণার ঘটনা ঘটে ১ হাজার ১শ ৮৭টি। একবছর আগে যার সংখ্যা ছিল মাত্র ৪১২।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বজুড়ে উগ্র জাতীয়তাবাদের সাম্প্রতিক উত্থান এবং নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে নিজেদের মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সাবেক কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পক বিশেষজ্ঞরা।

উগ্র জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের প্রচারণা কঠোর ভাবে দমন সহ অন্তর্ভূক্তি মূলক সমাজ গঠনের পরামর্শও দেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে উগ্রবাদী গোষ্ঠি যাতে প্রচারণা চালনোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে এবং অভিবাসী প্রশ্নে তরুণদের চিন্তাকে আরো স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সজাগ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন