রাজধানীতে বেড়েই চলেছে শব্দ দূষণের মাত্রা

0

রাজধানীতে বেড়েই চলেছে শব্দ দূষণের মাত্রা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৩ সালের গবেষণায় ঢাকায় শব্দদূষণ গ্রহণযোগ্য মাত্রার তিনগুণ থাকলেও, বর্তমানে তা আরো বেড়েছে। এর ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। আর এই দূষণে সবচে’ বেশি ক্ষতির শিকার শিশুরা। তাই শব্দ দূষণের হাত থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে– যানবাহনের সংখ্যাও। এসব যানবাহনে কেউ ব্যবহার করছেন অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ণ, কেউবা সাধারণ হর্ণ। প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে, অযথাই হর্ণ টিপে দেন চালক। ফলে শব্দ দূষণকে সঙ্গি করেই প্রতিনিয়ত চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৩ সালের গবেষণা বলছে- ৬০ ডেসিবেল শব্দ মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। এছাড়া শব্দ দূষণের ফলে– দেশের ২০ শতাংশ মানুষের শ্রবণ শক্তি লোপ পেয়েছে। যার মধ্যে ২৬ ভাগই শিশু। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং একটি বেসরকারি সংস্থার সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, বর্তমানে শব্দ দূষণ আরো বেড়েছে।

১৯৯৬ সাল থেকে ২৫ এপ্রিলকে পালন করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস হিসেবে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, শিশুদের শব্দ দূষণের হাত থেকে রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ।

শব্দ দূষণের সবচে’ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। বিঘ্ন হচ্ছে লেখাপড়াও। সড়কে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনকারী ভুক্তভোগী এসব ট্রাফিক পুলিশেরও চাওয়া শব্দ দূষণ থেকে রেহাই। যানবাহনের পাশাপাশি কলকারখানার উচ্চ শব্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে মাইক ও শব্দযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এখন সময়ের দাবি বলে মত ভুক্তোভোগীদের।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন