রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণে একেবারে পিছনের সারিতে বাংলাদেশ

0

২০১৮ সালে ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পোশাক উৎপাদন করে রপ্তানীতে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু রপ্তানী পণ্য জাহাজীকরণের দিক থেকে একেবারে তলানীতে বাংলাদেশের নাম। আর আমদানী পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায়ও শেষের দিক থেকে ২য় অবস্থানে। ৪৯ টি দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর জরিপ চালিয়ে আমদানী রপ্তানী বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতার এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে এডিবি। যা উন্নয়নশীল এই দেশের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা।

রপ্তানীপণ্যবাহী একটি কন্টেইনার উদ্যোক্তাদের কারখানা থেকে অফডক হয়ে বন্দর ও কাস্টমসের ফরমালিটি সম্পন্ন করে জাহাজিকরণের পর রওনা হয় নির্ধারিত গন্তব্যে। আর এই ক’টি ধাপ পার হতে ঘড়ির কাটায় সময় লাগছে ৩১৫ ঘন্টা। আর আমদানী পণ্য জাহাজ থেকে খালাসের পর ব্যবসায়ীর গুদামে পৌছতে সময় লাগছে অন্তত ৩৬০ ঘন্টা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি তাদের বার্ষিক এশিয়ান ইকোনমিক ইন্টিগ্রেশন রিপোর্টে বন্দর ব্যবস্থাপনার এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবেই দেখছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

প্রতিবছর ৪৯ টি দেশের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোর ওপর জরিপ চালিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে এডিবি। রপ্তানী পণ্যের ক্ষেত্রে ২৭৬ ঘন্টায় সার্ভিস নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলেছে মিয়ানমার। অবশ্য অমদানীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরে আছে কেবলই আফগানিস্তান। দেশটির নিজেদের পোর্ট না থাকায়, অন্যদের পোর্ট ব্যবহার করে আমদানী পণ্য বুঝে পেতে সময় লাগে ১৭ দিন। আর এতগুলো পোর্ট থাকতেও বাংলাদেশের আমদানীকারকতে পণ্য পেতে অপেক্ষা করতে হয় অন্তত ১৫ দিন।

ফ্রেইট ফরোয়াডার্স এসোসিয়েশন বলছে, অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে অপারেশনাল কাজ পরিচালনায় পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। পরিস্থিতির উন্নয়নে ওয়ানস্টপ সার্ভিসসহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। মাত্র দুই ঘন্টাই রপ্তানীমুখী কন্টেইনার জাহাজিকরণ করে বন্দর সুবিধার এই তালিকার শীর্ষে হংকং। আর ৫ ঘন্টার মধ্যে আমদানীকারকের গুদামে পণ্য পৌছে দিয়ে আমদানী সুবিধার শীর্ষে আছে মধ্য এশিয়ার দেশ আর্মেনিয়া।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন