মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত

0

রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত জাতিসংঘের। এমন মত দিয়েছেন, সফররত অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্ট সদস্য ও দেশটির সংসদীয় পদ্ধতির জনক, ফিলিপ এম. রুডক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত মিয়ানমারের জবাবদিহিতা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে এক সেমিনারে তিনি এই মত তুলে ধরেন। এসময় বিশেষজ্ঞরা বলেন, আন্তর্জাতিক জনমতের প্রতি মিয়ানমারের শ্রদ্ধা আদায়ে জাতিসংঘের উচিত, পুরনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো।

গেল বছর আগস্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নির্মম ক্রোধে এভাবেই জ্বলে ওঠে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম এলাকাগুলো।

প্রাণভয়ে বাংলাদেশে ছুটে আসা প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় কক্সবাজারের কুতুপালংসহ বিভিন্ন পাহাড়ে। এরপর শুরু হয় ফিরে যাবার প্রতিক্ষা।

এমন বাস্তবতায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ তদন্তে আদালত কোনো এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে কিনা সে বিষয়ে একটি আদেশ জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এক প্রসিকিউটর। এখতিয়ার প্রয়োগের পক্ষে প্রসিকিউটরের প্রধান যুক্তি, মিয়ানমারা রোম চুক্তি সই করেনি, তারপরও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে জোর করে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে, রোম চুক্তির পক্ষরাষ্ট্র বাংলাদেশে।

তাই আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের বিপক্ষে তথ্য প্রমাণ যোগাড় করা প্রয়োজন বলেও মত দেন যুগোশ্লাভিয়ার যুদ্ধাপরাধ প্রমাণে কাজ করা আইসিসির এই অভিজ্ঞ প্রসিকিউটর।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে সবাইকে মিয়ানমারের প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখার আহ্বান অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ও এই কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞের।

তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর ফল পেতে মিয়ানমারের প্রতি জাতিংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দেন সফররত এই কূটনৈতিক।

সংকট সমাধানে রাশিয়া ও চীনকে আস্থায় আনতে সরকারকে আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন